Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬

সাতসকালে দিল্লি পুলিশের অপারেশন, যন্তরমন্তর থেকে হাসপাতালে, অনশন ভাঙতে নারাজ সোনাম

সাতসকালে দিল্লি পুলিশের অপারেশন, যন্তরমন্তর থেকে হাসপাতালে, অনশন ভাঙতে নারাজ সোনাম
  • ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: কারও গায়ে সাদা পোলো টি-শার্ট, কারও আবার চেক শার্ট। পায়েও পুলিশসুলভ বুটজুতোর বদলে স্নিকার্স। এমন সাধারণ পোশাকেই শনিবার সাতসকালে যন্তরমন্তরে এসে হাজির হয়েছিলেন জনাদশেক ব্যক্তি। তাঁদের চালচলন, হাবভাব দেখে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি ককরোচ জনতা পার্টি কিংবা অনশন কর্মসূচিতে হাজির অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের মনে হয়েছিল যে, অনশনরত সোনাম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করার জন্য হয়তো মেডিক্যাল টিম এসেছে। ওই ব্যক্তিরাও তেমনটাই দাবি করেছিলেন। ফলে সরাসরি অনশন মঞ্চে উঠে যেতে তাঁদের বিশেষ বেগ পেতে হয়নি।  কিন্তু আন্দোলনকারীদের ভুল ভাঙে অচিরেই। কারণ, সাদা পোশাকের ওই টিমের প্রত্যেকে ছিলেন দিল্লি পুলিশের কর্মী। আন্দোলনকারীরা পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই অনশনরত অসুস্থ সোনামকে তুলে তাঁরা একটি বিছানার চাদরে শুইয়ে দেন। আর তারপর প্রায় চ্যাংদোলা করে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় মঞ্চ থেকে নামিয়ে তাঁকে তোলা হয় অদূরে রাখা অ্যাম্বুলেন্সে। মুহূর্তেই সাইরেন বাজিয়ে সেই অ্যাম্বুলেন্স এলাকা ছাড়ে। গোটা ঘটনার কোনো ভিডিয়ো কিংবা ছবি যাতে তোলা না যায়, সেই কারণে অনশন মঞ্চ থেকে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত সাদা কাপড়ে আড়াল করে রেখেছিল পুলিশ। সোনাম অবশ্য তার মধ্যে থেকেই হাত নাড়েন। 

Advertisement

সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ এমন ফিল্মি কায়দায় সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে অনশন মঞ্চ থেকে দিল্লি পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে যায় দেশজুড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পরে অবশ্য বিবৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশ মেনেই যাবতীয় আয়োজন। আরও ভালোভাবে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করার জন্যই অনশনরত সোনামকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভরতি করানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে যে, এদিন সকাল ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ সোনাম ওয়াংচুককে সেখানে আনা হয়। যদিও এতকিছুর পরেও বাস্তবের ‘র‌্যাঞ্চো’র অনশন ভাঙতে পারেনি দিল্লি পুলিশ অথবা মোদি সরকার। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালেও কোনো কিছু মুখে তোলেননি। স্যালাইনও দেওয়া যায়নি তাঁকে। এমনকী ওষুধও।
সোনামকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে পুলিশের। আগামী সোমবার সংসদ ভবন অভিযান ভণ্ডুল করতে পুলিশ রাতের অন্ধকারে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা আন্দোলনকারীদের। এদিন দুপুরে যন্তরমন্তরের অবস্থান স্থলেই ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকের মুখে কালি ছুড়েছেন এক মহিলা। এর ফলে হামলার আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। দিল্লি পুলিশের কাজের তীব্র নিন্দা করেছে বিরোধীরা। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ, ‘অসত্য বলা এবং হিংসার আশ্রয় নেওয়া মোদি সরকারের অন্যতম নীতি।’ সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অভিযোগ করেছেন, ‘হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। সেকেন্ড ওপিনিয়ন নিতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু বলা হয়েছে, সোনামের পটাশিয়াম লেভেল নাকি স্বাভাবিকের থেকে কমে গিয়েছে। একদিনের মধ্যে তা কীভাবে সম্ভব?’ গীতাঞ্জলি সাফ জানিয়েছেন, সোমবারের মিছিলে প্রয়োজনে সোনামের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ