Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিশি হেফাজতেই বিরজুর মৃত্যু, হালিশহরে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

হালিশহর থানায় পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেয়টের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির কথা স্পষ্টভাবে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

পুলিশি হেফাজতেই বিরজুর মৃত্যু, হালিশহরে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: হালিশহর থানায় পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেয়টের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির কথা স্পষ্টভাবে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি দাবি করেন, বিরজুর মৃত্যু পুলিশের হেফাজতেই হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং হেফাজতে তাঁর উপর কী ধরনের অত্যাচার হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্তকারী আধিকারিক ফিরোজ মল্লিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি হালিশহর থানার আইসি তমাল দত্তকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু সাসপেন্ড বা ক্লোজ নয়, দোষী পুলিশ অফিসারের কঠোর শাস্তির দাবি করলেন মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে ম্যাজিস্ট্রিয়াল এনকোয়ারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বিরজুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মাকে অ্যাটেনডেন্ট পদে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে ১২ মাস মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। সেই মেয়াদ সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে স্থায়ী করার ব্যবস্থা করা হবে। এদিন মৃত বিরজুর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক ও মন্ত্রী অর্জুন সিং, মন্ত্রী সুমনা সরকার, জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার এবং নৈহাটির বিধায়ক। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। 

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের উপর পরিবার যে আস্থা রেখেছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে পরিবার রাজনীতি করতে দেয়নি বলেও তাঁদের প্রশংসা করেন তিনি।  

গতকাল বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হালিশহরে প্রবেশ করতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাঁকে উদ্দেশ্য করে উঠে আসে চোর চোর স্লোগান। ছোড়া হয় চটি-কাদা। এবিষয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনকে আগে থেকে না জানিয়েই হালিশহরে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। 

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে হালিশহর থানার পুলিশ বিরজু কেয়টকে গ্রেপ্তার করে। রিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কল্যাণীর এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিরজুর পরিবারের অভিযোগ ছিল, পুলিশি অত্যাচারের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ