


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘মাস্টার কি’ দিয়ে নিমেষের মধ্যেই বাইক চুরি। সময় লেগেছে মাত্র ২০ সেকেন্ড। বাইক চুরির তদন্তে নেমে চক্রের এক পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল রামপুরহাট থানার পুলিস। তাকে জেরা করে জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার পরিত্যক্ত অফিসঘর থেকে ঝোপে ঢাকা চুরি যাওয়া বাইক উদ্ধার হয়। তাকে জেরা করে চক্রের বাকি সদস্যদের জালে তুলতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিস।
গত ২০মে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন জাতীয় সড়কের ধারে একটি রেস্তরাঁর বাইরে থেকে একটি বাইক চুরি যায়। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিস। রেস্তরাঁর বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর সড়কের একাধিক জায়গায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিস এক চোরকে চিহ্নিত করে। কিন্তু, তার খোঁজে একাধিকবার বাড়ি যাওয়া হলেও পুলিস তাকে পায়নি। অবশেষে শুক্রবার রাতে কলকাতা থেকে আসতেই রামপুরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিঠুন শেখ নামে ওই চোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার বাড়ি মাড়গ্রামের এঠালোপাড়ায়। শনিবার ধৃতকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিসি জেরায় ভেঙে পড়ে সে চুরির কথা স্বীকার করে। সে জানায়, চুরি যাওয়া বাইকটি জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার পরিত্যক্ত অফিসঘরে গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রেখে দিয়েছে। ধৃতকে নিয়ে সেখান থেকে বাইকটি উদ্ধার হয়। সে ওই চক্রের ‘লিফটার’ বলে অনুমান পুলিসের।
কয়েক মাস আগে আন্তঃরাজ্য বাইক চুরি চক্রের পান্ডা মাড়গ্রামের সিপন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকে জেরা করে রামপুরহাটের জাতীয় সড়ক লাগোয়া সানঘাটা পাড়ার একটি পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে সাতটি চুরি যাওয়া মোটরবাইক উদ্ধার হয়। জেরায় পুলিস জানতে পারে সিপন এই চক্রের ‘রিসিভার’ হিসেবে কাজ করত। এই চুরি চক্রের অন্যতম মাথা পাইকরের লম্বাপাড়ার কিরণ শেখ। পুলিস তাকেও গ্রেপ্তার করে। ওই চক্রের সঙ্গে ধৃতের যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে পুলিস তদন্তে নেমেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত মিঠুন নিমিষেই বাইক খুলতে ওস্তাদ। কীভাবে সে চুরি করত, তা আমাদের দেখিয়েছে। প্রথমে সে নীচে বসে হ্যান্ডেলে পা দিয়ে হ্যাঁচকা ঠেলে লক ভেঙে দিচ্ছে। তারপর ‘মাস্টার কি’ দিয়ে বাইক স্টার্ট করে বেপাত্তা। মাত্র ২০ সেকেন্ডের ‘অপারেশন’এ বাইক চুরি।
ঝাড়খণ্ড ও মুর্শিদাবাদ লাগোয়া মুরারই, পাইকর ও রামপুরহাট থানা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তঃরাজ্য বাইক পাচার চক্র তৈরি হয়েছে। নম্বরপ্লেট ও খোলনলচে বদলে ঝাড়খণ্ডে চুরি করা বাইক এরাজ্যে, আর বাংলার বাইক ঝাড়খণ্ডে ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ দামে বিক্রি করে। পুলিসের অনুমান, কিছু ক্ষেত্রে চুরি যাওয়া বাইকের ইঞ্জিন বাংলাদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। কারণ, বাংলাদেশে নৌকায় ব্যবহারের জন্য বাইকের ইঞ্জিনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ধৃতের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য বাইক পাচার চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্ত করছে পুলিস। চক্রের বাকিদের খোঁজ চলছে।