


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: তনুশ্রী চক্রবর্তীর পর এবার হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তীকে প্রার্থী করলেও তৃণমূলের কালীপদ মণ্ডলের কাছে গোহারা হেরেছিলেন। ভোট মিটতেই সেই তনুশ্রী পগার পার। এ নিয়ে দলের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁছেছিল। সেকারণে এবার শ্যামপুরের ভূমিপুত্রকে প্রার্থী হিসাবে চেয়েছিলেন বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। পদ্ম শিবির প্রার্থী বদল করল বটে, তবে ফের বহিরাগততেই ভরসা রাখল তারা। এই কেন্দ্রে ভূমিপুত্রের পরিবর্তে আরেক অভিনেতা খড়্গপুরের বিধায়ক হিরন্ময় (হিরণ) চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এতে কিছুটা হলেও হতাশ কর্মী-সমর্থকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, আমাদের সকলের আশায় জল ঢেলে দিয়েছে নেতৃত্ব। স্থানীয় প্রার্থী পেলে ফল অন্যরকম হতে পারত। আমরা সেইমতো মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এবারও আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হল না। যদিও কর্মী-সমর্থকদের দাবি, প্রার্থী যিনি হন না কেন, শ্যামপুরে এবার বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তবে বিজেপি প্রার্থী হিরণ নিজেকে ভূমিপুত্র বলেই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমার জন্ম উলুবেড়িয়ায়। আমার মামাবাড়ি শ্যামপুরে। নিজের জন্মস্থান, নিজের মাটিতে ফিরে আসা আমার জীবনে একটা বড়ো প্রাপ্তি। এই আনন্দ পৃথিবীতে কোথাও পাওয়া যায় না। নিজের জয় প্রসঙ্গে হিরণের দাবি, শ্যামপুর যে জায়গায় ছিল, আজও সেই জায়গাতেই আছে। এখনও এখানে ভালো হাসপাতাল, ভালো কলেজ নেই। সেতু হয়নি। ফলে আমার মা যখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তখন শ্যামপুর যে অবস্থা ছিল, এখনও তাই। আমি হাসপাতাল, সেতু, কলেজ তৈরির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাব। তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানার বক্তব্য, কে বলল শ্যামপুরে ভালো কলেজ নেই? আইটিআই কলেজ আছে। সেতুও আছে। আসলে বিজেপি প্রার্থী শ্যামপুরের মাটি চেনেন না। তাই তিনি উলটো পালটা কথা বলছেন। শ্যামপুরের মানুষ বরাবরই বহিরাগতদের প্রত্যাখ্যান করেছে। গত নির্বাচনেও বিজেপি এখানে পরাজিত হয়েছিল। তার ব্যতিক্রম হবে না।