ন’বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিল মেয়েটি। চিত্রশিল্পী বাবার থেকে ততদিনে শিখে নিয়েছিল আঁকার নানা খুঁটিনাটি। নিজেও ভালোবাসত আঁকতে। তবে সাত ভাই-বোনের সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যে আঁকা নিয়ে প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ মেলেনি। তিনি ভানু আন্নাসাহেব রাজোপাধ্যায় তথা ভানু আথাইয়া। ভারতের প্রথম অস্কারজয়ী। ১৯২৯ সালে মহারাষ্ট্রের কোলাপুর শহরে জন্ম ভানুর। ছোট থেকেই আঁকার প্রতি ভালোবাসা ছিল। বাবা উৎসাহ দিতেন শিল্প, সৃজনশীল নানা কাজে। তাই শৈশবে ভানুর বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন বাবাই। বাবার মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিলেন। তবে চালিয়ে যান শিল্পচর্চা। আঁকার পাশাপাশি আরও একটি কাজেও তাঁর উৎসাহ তুঙ্গে ছিল। পোশাক। নানা রঙের, নানা ধরনের পোশাক তৈরি করতে পারতেন। আঁকা, পোশাক ডিজাইনিং নিয়েই সময় কাটছিল। ২৭ বছর বয়সে গুরু দত্তের কাছ থেকে সুযোগ এল। পরিচালক জানালেন, তাঁর আসন্ন ছবি ‘সিআইডি’র জন্য কস্টিউম ডিজাইন করতে হবে তাঁকে। অর্থাৎ চরিত্র অনুযায়ী অভিনেতাদের পোশাক দিয়ে সাজাতে হবে। প্রথম ছবিতেই প্রমাণ করলেন নিজের দক্ষতা। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। গুরু দত্তের দলে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিলেন। ‘পিয়াসা’, ‘কাগজ কে ফুল’, ‘সাহেব বিবি অউর গোলাম’, ‘তিসরি মঞ্জিল’ সহ একাধিক ছবির কস্টিউম ডিজাইন করলেন। শোনা যায়, অভিনেত্রী নার্গিস নাকি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতেন তাঁর কাজ। ওয়াহিদা রহমান, জিনাত আমন, বৈজয়ন্তীমালার মতো নায়িকারাও সেজেছেন তাঁর পোশাক ভাবনায়। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বরাবর উপেক্ষিত কস্টিউম বিভাগ ভানুর হাত ধরেই দেখল ‘নতুন সূর্য’। ১৯৮২ সালে রিচার্ড অ্যাটেনবরোর ছবি ‘গান্ধী’র জন্য অস্কার জিতলেন তিনি। প্রথম ভারতীয় হিসেবে পৌঁছেছিলেন বিশ্ব দরবারে।



