নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বেআইনিভাবে বাজি তৈরির সময় বিস্ফোরণে মৃত্যু হল এক কিশোরের। রবিবার বিকেলে ডায়মন্ডহারবার থানার কানপুর ধনবেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বারদ্রোণ এলাকার নস্করপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম ঋজু পাইক (১৪)। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন। তাঁদের প্রথমে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। যে বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি দেবদাস হালদার নামে ডায়মন্ডহারবার থানার এক ভিলেজ পুলিসের বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যে দু’জন জখম হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন ওই ভিলেজ পুলিস। এছাড়া শানু পুরকাইত নামে তাঁর এক আত্মীয় জখম হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে বহুদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বাজি তৈরি হতো। ঘরে মজুত ছিল বিপুল পরিমাণ বারুদ ও বাজির অন্যান্য মশলা। তবে এদিন ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার পর এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে এদিন রাত পর্যন্ত পুলিসের তরফে সরকারিভাবে এই ঘটনা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ভিলেজ পুলিসের মা, বাবা, স্ত্রী ও মেয়ে আছেন। তবে ঘটনার সময় তাঁরা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। মা তাঁর মেয়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। বাবা গিয়েছিলেন পাড়ার কলে জল নিতে। স্ত্রী ছিলেন বাইরে। মেয়ে বিকেলে খেলতে বেরিয়েছিল। মৃত কিশোর ঋজু পাইকের বাড়ি ওই গ্রামেই। দেবদাসের আত্মীয় শানুবাবু থাকেন দোলনঘাটায়। তিনি এদিন বিকেলে দেবদাসের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন। আর ঋজু খেলতে খেলতে সেখানে ঢুকে পড়েছিল। তার কিছুক্ষণের মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা পাড়ায়। দাউ দাউ জ্বলতে থাকে বাড়ির একাংশ। দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে এসে পুলিস দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তবে আগুন আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েনি বলে আরও বড় বিপত্তি এড়ানো গিয়েছে। রাত পর্যন্ত এলাকায় বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন ছিল।
প্রশ্ন উঠেছে, একজন ভিলেজ পুলিসের বাড়িতে বাজি তৈরির অবৈধ কারবার চলছিল কীভাবে? স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, অনেকদিন ধরেই তাঁরা দেবদাসকে রংমশাল, তুবড়ি বানাতে দেখছেন। তবে এর আড়ালে অন্য কিছু হতো কি না, তাঁরা জানেন না। ডায়মন্ডহারবারের বিধায়ক পান্নালাল হালদার বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকব। বাজি তৈরির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকতে হবে। সোমবার ঘটনাস্থলে যাব।’
প্রশ্ন উঠেছে, একজন ভিলেজ পুলিসের বাড়িতে বাজি তৈরির অবৈধ কারবার চলছিল কীভাবে? স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, অনেকদিন ধরেই তাঁরা দেবদাসকে রংমশাল, তুবড়ি বানাতে দেখছেন। তবে এর আড়ালে অন্য কিছু হতো কি না, তাঁরা জানেন না। ডায়মন্ডহারবারের বিধায়ক পান্নালাল হালদার বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকব। বাজি তৈরির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকতে হবে। সোমবার ঘটনাস্থলে যাব।’



