Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ভুল করে ‘নিখুঁতি’

ভুল করে ‘নিখুঁতি’
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শান্তিপুর মানেই তাঁতের শাড়ি। এর বাইরে খাদ্যরসিকদের কাছে শান্তিপুরের অন্য পরিচয় রয়েছে। খেতে ভালবাসেন যাঁরা, তাঁদের অনেকের কাছেই নিখুঁতি এক লোভনীয় নাম। যার জন্মস্থল নদীয়ার শান্তিপুর। দেখতে কিছুটা ল্যাংচার মতো এই মিষ্টির বাইরেটা কিছুটা কঠিন-শুকনো। ছানার তৈরি এই মিষ্টিকে কড়া করে ভাজার ফলে রঙ হয় গাঢ় লাল। এরপর হালকা রসে ডুবিয়ে পরিবেশনের আগে উপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় গোলমরিচের গুঁড়ো। 
Advertisement
এই মিষ্টি নাকি তৈরিই হয়েছিল ভুলের বশে। গবেষকদের মতে, ১৮৫৬ সাল নাগাদ শান্তিপুর শহরের গোভাগাড় মোড়ের কাছেই ছিল ভোলা ময়রার দোকান। মতভেদে যাঁর নাম ইন্দ্র ময়রা। তাঁর এক অপূর্ব সুন্দরী কিশোরী কন্যা ছিল। তার নাম ছিল নিখুঁতি। একদিন বিক্রিবাটা শেষে ভোলা ময়রা তার কিশোরী কন্যাকে দোকানে বসিয়ে কাজে বেরিয়েছেন। আর বাবা না থাকার সুযোগে খেলায় মেতেছে কিশোরী। সামনেই ফুটন্ত তেলের কড়াই। ছানার দলা কেটে তা হাতে লম্বা করে পাকিয়ে সেই তেলে ছেড়ে দেয়। এই করতে করতে বেশ কিছুটা সময় চলে যায়। ততক্ষণে ছানার লম্বা লেচিগুলি লাল বর্ণ ধারণ করেছে। এরপরই কিশোরীটির মনে হতে থাকে, বাবা ফিরে এসে এই কাণ্ড দেখলে তাকে আর আস্ত রাখবে না। পাশেই ছিল রসের কড়াই। কীর্তি লুকোতে ভাজা লেচিগুলি ওই রসে ফেলে দেয় সে। বাড়ি ফিরে মেয়ের কাণ্ড দেখে রেগে অগ্নিশর্মা ভোলা ময়রা। কিন্তু অতখানি মিষ্টি ফেলে দিতেও মন সায় দিচ্ছে না। কী উপায়? সেই সময়েই দোকান হাজির হন এক খরিদ্দার। দোকানে কিছু না থাকায় ভয়ে ভয়ে সেই মিষ্টিই তার হাতে তুলে দেন ভোলা। পরদিন সকালে দোকান খুলতেই সেই খরিদ্দার এসে হাজির। তিনি এসেই মিষ্টির নাম জানতে চান। কানে খাটো ভোলার মনে হয়েছিল খরিদ্দার বোধহয় মিষ্টির কারিগরের নাম জানতে চেয়েছেন। মেয়ের নাম বলে দেন ভোলা। সেই নামই খরিদ্দারের কাছে পৌঁছয় মিষ্টির নাম হিসেবে।
সম্পর্কিত সংবাদ