কলকাতার ময়দানের অন্যতম আকর্ষণ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। তিলোত্তমার এই স্মৃতিসৌধের চূড়ায় রয়েছে একটি পরী। উপর থেকেই সে যেন সবকিছুর উপর নজর রাখছে। সবুজ ঘেরা প্রকৃতির মাঝে এই সুন্দর সৃষ্টিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। কীভাবে এল এই পরী? জানতে গেলে চোখ রাখতে হবে ইতিহাসের পাতায়। ১৯০১ সাল। দেহ রাখলেন ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়া। শোকে বিহ্বল ব্রিটেন। ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় তখন রাজপাট সামলাচ্ছেন লর্ড কার্জন। তৈরি করছেন বাংলা ভাগের নীল নকশা। ইংল্যান্ডের কর্তাব্যক্তিদের খুশি করতে আরও একটি পরিকল্পনা এল তাঁর মাথায়। রানির স্মৃতিসৌধ গড়তে হবে। শুরু হল মর্মর প্রাসাদ তৈরির কাজ। কার্জনের অন্যতম প্রিয় স্থাপত্য আগ্রার তাজমহল। ভিক্টোরিয়ায় তার ছাপ স্পষ্ট। তাজের মতোই মাকরানা মার্বেল দিয়েই এই স্মৃতিসৌধ তৈরি করেছিলেন উইলিয়াম এমারসন। সবশেষে ভিক্টোরিয়ার মাথায় বসল একটি ঘূর্ণায়মান পরী। উচ্চতা ১৬ ফুট। ওজন ৩ টনের বেশি। তৈরি করেছিলেন ব্রিটিশ ভাস্কর লিন্ডসে ক্লার্ক ও জর্জ ম্যানসিনি। ১৯২০ সালে ব্রিটেনের শেলটেনহ্যাম থেকে ভারতে পৌঁছয় ব্রোঞ্জের এই অপূর্ব ভাস্কর্য। ১৯২১ সালে প্রয়াত রানির মাথার মুকুট হিসেবে স্মৃতিসৌধের চূড়ায় বসল ওই পরী। এরও নাম ভিক্টোরিয়া। রোমানদের কাছে যিনি বিজয়ের দেবী হিসেবে পরিচিত। বলবেয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাওয়ার তালে তালে দিব্যি ঘুরত এই পরী। কিন্তু ততদিনে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। তাই পরীর দিকে কেউ সেভাবে নজর দিলেন না। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। অস্তমিত হয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। ১৯৭৮ সালে হঠাৎ নজরে এল, পরী আর ঘুরছে না। মেমোরিয়ালের অছি পরিষদ সমস্যার সমাধান করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করল। তখন মেরামতির কাজ করেছিল জেসপ অ্যান্ড কোম্পানি। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে কয়েক দশক। আজও এই পরী নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই।



