Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ভগবানপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দির

ভগবানপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দির
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে ৩০০ বছরের প্রাচীন রাধাগোবিন্দ জিউয়ের নবরত্ন মন্দির। ভগবানপুরের জুখিয়ার ধেলুয়া গ্রামের ভগ্নপ্রায় ও জীর্ণ এই মন্দিরের উপর গজিয়েছে বট, অশ্বত্থ সহ বহু গাছ। বয়সের ভারে চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি এই মন্দিরের গা থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই নবরত্ন মন্দিরকে হেরিটেজ তকমাভুক্ত করে সংস্কার ও সংরক্ষণ করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Advertisement
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ৭৫ ফুট উঁচু দৃষ্টিনন্দন এই মন্দিরটি জেলার সর্বোচ্চ। মন্দিরের স্থাপত্যও চোখে পড়ার মতো। পরতে 
পরতে রয়েছে অপূর্ব গঠনশৈলী ও টেরাকোটা সমৃদ্ধ কারুকার্যের ছোঁয়া। রয়েছে ন’টি দেউল। সেই কারণেই এই মন্দিরের সঙ্গে জুড়েছে 
‘নবরত্ন’ নাম। দেউলগুলি দেখতে রথের মতো, সমান্তরালভাবে 
খাঁজ কাটা। রাধাগোবিন্দ জিউয়ের মন্দিরের পাশেই রয়েছে মুণ্ডমালাশোভিতা দশভুজা কালী ও চতুর্ভুজা উগ্রচণ্ডার মন্দির। সেই মন্দিরটিও একইভাবে ভগ্নদশাপ্রাপ্ত। সেটাও সংস্কারের দাবি উঠেছে। 
ভগবানপুরের ইতিহাসবিদ মন্মথনাথ দাসের লেখা ‘ধর্মস্থান-উৎসব-পুরাকীর্তি’ বই থেকে জানা যায়, ১৮০০ সালে গ্রামের সম্পন্ন ব্যক্তি হৃদয়রাম বেরা নবরত্ন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বহু বছর পর এগরার বাসুদেবপুর রাজবাড়ির রানি হরিপ্রিয়া মন্দিরটিকে সংস্কার করেন। মন্দিরের প্রবেশ পথের উপর রয়েছে দশাবতার স্ট্যাকোর কয়েকটি মূর্তি। পাশে রয়েছে বৃষবাহন মহাদেব, রাম-রাবণের যুদ্ধের দৃশ্যযুক্ত কয়েকটি ফলক। ভিতরে চক্রাকার সিঁড়ি রয়েছে, যা দিয়ে চূড়োয় আরোহণ করা যায়। বিগ্রহ হিসেবে রয়েছেন বংশীধারী কৃষ্ণ, রাধিকা, দোলগোবিন্দ, লক্ষ্মী ও মহাপ্রভু। ভগ্নপ্রায় মন্দিরেই তাঁরা পূজিত হন। পাশের পরিত্যক্ত মন্দিরের মুণ্ডমালা শোভিতা দশভুজা কালী, চতুর্ভুজা উগ্রচণ্ডার বিগ্রহও এখানে স্থান পেয়েছে। নিত্যপুজো ছাড়াও দু’বেলাই রাধাগোবিন্দের অন্নভোগ হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার সময় স্থানীয় চন্দনদিঘির পাড়ে আয়োজিত চন্দনী মেলা এই এলাকার অন্যতম প্রধান উৎসব। ভাদ্র মাসে ঝুলনযাত্রা ও কার্তিকে রাসযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আগে মাঘী রথযাত্রা হলেও এখন তা বন্ধ। আশ্বিন মাসের নবমীতে হয় দুর্গাপুজো।
সম্পর্কিত সংবাদ