রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের গৃহী শিষ্য ভবনাথ চট্টোপাধ্যায়। বাংলার নবজাগরন পর্বের এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্বের নাম আজ প্রায় বিস্মৃতির আড়ালে। বরানগরের অতুল কৃষ্ণ ব্যানার্জী লেনে তাঁর জন্ম। স্বামী বিবেকানন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন তিনি। তাঁর সুবাদেই বরানগর এলাকায় নিয়মিত আসতেন স্বামী বিবেকানন্দ। বহু জনকল্যাণমূলক ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন ভবনাথ। বরানগর ভিক্টোরিয়া স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতাও করেছিলেন তিনি। বরানগরে তাঁর বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সাতকড়ি লাহিড়ী ও সহপাঠী দাশরথি সান্যাল। প্রয়াত ইতিহাসবিদ অজিত সেনের ‘আঞ্চলিক ইতিহাস/ বরানগর’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে ভবনাথ সম্পর্কে সুবিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায়। ওই গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘১৮৮৬ সালে (বাংলার আশ্বিন মাস) মূলত ভবনাথের প্রয়াসেই বরানগর মঠ প্রতিষ্ঠিত হয়। ভবনাথ মুন্সিবাবুদের ভূতের বাড়িখানা মাসিক ১১ টাকা ভাড়ায় বন্দোবস্ত করে দেন।’ তিনি ছিলেন সুগায়ক। সাহিত্যের প্রতিও ছিল তাঁর অসীম ভালোবাসা। তাঁর রচিত ‘নীতি কুসুম’ ও ‘আদর্শ নরনারী’ সহ বিভিন্ন গ্রন্থ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অজিতবাবু তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আরও লিখেছেন, ভবনাথের একটি বড় কাজ হল- ‘আত্মোন্নতি বিধায়নী সভা’ (১৮৭৬) প্রতিষ্ঠা। সেখানে একটি পাঠাগারও ছিল। যা ১৮৯৩ সাল নাগাদ দক্ষিণ বরানগর পাবলিক লাইব্রেরির সঙ্গে মিলে যায়। এরপর থেকে তা ‘বরানগর পিপলস লাইব্রেরী’ নামে পরিচালিত হতে থাকে। ভবনাথ ও নরেন্দ্রনাথ বিধায়নী সভার একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তিনি কিছুদিন সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাজ নিয়ে বরানগর থেকে অন্যএ চলে গিয়েছিলেন। বরাগরের বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্র-পত্রিকা থেকে জানা যায়, ১৮৮২ সালের ৫ আগস্ট ভবনাথ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে কলকাতার বিদ্যাসাগরের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন রামকৃষ্ণ কথামৃত রচনাকার শ্রীম অর্থাৎ মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত। ১৮৮৩ সালের ১৮ জুন তিনি পরমহংসদেবের সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে এক ধর্মীয় মহোৎসবে গিয়েছিলেন। ১৮৯৬ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে এই মহান একনিষ্ঠ কর্মযোগীর অকাল প্রয়াণ ঘটেছিল। তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল কাশীপুর শ্মশানে। বর্তমানে যার নাম কাশীপুর রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান।



