


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ভাবাদিঘিতে শুরু হল মাটি পরীক্ষার কাজ। পূর্ব রেলের তরফে শুক্রবার থেকে এই কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি। খবরটি জানাজানি হতেই বাঁকুড়া ও হুগলি জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। সবারই প্রশ্ন একটাই—তাহলে কি তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের জট কাটতে চলেছে?আর সেই জট কাটলে কি ভাবাদিঘির উপর ব্রিজ তৈরি হবে?
এদিন ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, ‘রেলের তরফে ব্রিজ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেইমতো মাটি পরীক্ষা করতে আমাদের সহযোগিতা চেয়ে রেল সম্প্রতি চিঠি দেয়। গ্রামবাসীরা আলোচনা করে তাতে সম্মতি দিয়ে পাল্টা চিঠি দিয়েছি। সেইমতো মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। মাটি পরীক্ষার ফলাফল মিললে ফের রেল ও রাজ্যের সঙ্গে আমরা বৈঠক করব। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’ তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘ব্রিজের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করেছি। আগামী কয়েকদিন ধরে এই কাজ চলবে। মাটি পরীক্ষার পর কিভাবে ব্রিজ তৈরি হবে, তার নকশা তৈরি হওয়ার কথা।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের তরফে ভাবাদিঘি এলাকায় যন্ত্রের সাহায্যে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করা হয়েছে। ভাবাদিঘি এলাকায় মাটিখুঁড়ে তার পরীক্ষা করা হচ্ছে।কাজ শুরু হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন পার্শবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দারাও তাকিয়ে রয়েছেন এই রেল প্রকল্পের দিকে। সেই সঙ্গে তাঁদের দাবি, ভাবাদিঘিতে দ্রুত জট কাটিয়ে গোঘাট ও কামারপুকুর স্টেশন যুক্ত করা হোক। ট্রেন চলুক তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত। রেল মানচিত্রে তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর যুক্ত হলে উন্নত হবে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা। গুরুত্ব বাড়বে পর্যটন কেন্দ্রগুলিরও।
গোঘাটের ভাবাদিঘি এলাকায় প্রায় দেড় দশক ধরে থমকে রয়েছে রেল লাইন সম্প্রসারণের কাজ। রেলের কাজ করা নিয়ে একাধিকবার উত্তেজনাও ছড়িয়েছে। মাস কয়েক আগে কলকাতা হাইকোর্ট মানুষের স্বার্থে রেল লাইনের কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেয়। তারপর রেল ও প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীদের। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর রেল ও ভূমি দপ্তর যৌথভাবে ভাবাদিঘি এলাকায় জমি জরিপ করে। এছাড়াও বৈঠকে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের। তারপর আচমকা এদিন সকাল থেকে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হওয়ায় রেলের সম্প্রসারণ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।