নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্ক স্ট্রিটে কার্যত ঠেলাঠেলির উপক্রম, এত ভিড়! পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তারা রাস্তায় নেমে কর্মীদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন, সুষ্ঠুভাবে ভিড় কীভাবে সামলাতে হবে। মাইকেও পুলিস ঘোষণা করছে, ‘ব্যারিকেডের বাইরে কেউ বের হবেন না।’ তারই মধ্যে ভেসে এল ‘কোভিড প্রোটোকল’ মেনে চলার কথা! শুনেই এ ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে। তারপরই শুরু হাসাহাসি। এতদিন বাদে কোভিডের কথা, মাস্ক পরার কথা শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল সবাই। এরই মধ্যে একজন বলে উঠলেন, ‘ কোভিড কোথায় স্যার? কীভাবে দূরত্ব বজায় রাখব স্যার?’
Advertisement
তখনই পাশের ভদ্রলোক আবিষ্কার করলেন, ‘পুরনো রেকর্ড বাজাচ্ছে পুলিস। তাই কোভিড সংক্রান্ত ঘোষণা চলছে।’ উত্সবমুখর মানুষের সর্বদা হাসির খোরাক দরকার। পার্ক স্ট্রিটে তার জোগান দিলেন আইনরক্ষকরাই। তাই করোনা নিয়ে কিছু কানে এলেই শুরু হয়ে যাচ্ছে সরস মন্তব্য, ‘মাস্ক না পরলে কি পুলিস ধরবে রে?’ এদিকে পুলিস তখন ভিড় সামলাতে কার্যত গলদঘর্ম। কিন্তু মানুষের আনন্দের শেষ নেই। কেউ রেস্তরাঁর বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাসিমুখে লাইন দিচ্ছেন। কেউ দরদস্তুর করে সান্তাক্লজের টুপি কিনতে ব্যস্ত। এই প্রবল ভিড়ের মধ্যে সকলের একটি বিষয়ে মিল। আলো ঝলমলে পার্ক স্ট্রিটে এসে কেউ ছবি তুলতে ভোলেননি। সন্তোষপুর থেকে আসা ৮২ বছরের প্রবীণ দিলীপ সেনগুপ্ত স্ত্রী-নাতনির সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন। বললেন, ‘আমাদের সময় তো এসব কিছুই ছিল না। এখন সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘুরছি। ছবি নিচ্ছি। ভালোও লাগছে বেশ।’ আর উত্সবে বাঙালির প্রতিবাদ থাকবে না, তা কি হয়? দেখা গেল, কয়েকজন পড়ুয়া প্যালেস্তাইনের প্রতি সংহতি জানিয়ে পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে। তাঁদেরও ছবি তুললেন অনেকে।



