Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভুয়ো নথিতে কলকাতাতেই ৩ হাজারের বেশি পাসপোর্ট, বারাসত কাণ্ডে আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি লালবাজারের

ভুয়ো নথিতে কলকাতাতেই ৩ হাজারের বেশি পাসপোর্ট, বারাসত কাণ্ডে আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি লালবাজারের
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাল নথি ব্যবহার করে শুধু কলকাতাতেই তিন হাজারের বেশি পাসপোর্ট তৈরি করেছে কিংপিন সমরেশ বিশ্বাস ও হরিদেবপুরের একটি এজেন্সির মালিক।  বাইরে জেলাতেও ছড়িয়ে রয়েছে তাদের নেটওয়ার্ক। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য উঠে এসেছে সিকিউরিটি কন্ট্রোলের হাতে। এই ঘটনায় এজেন্সি অফিসের কর্মী দীপঙ্কর দাসকে মঙ্গলবার রাতে বেহালার শীলপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে এজেন্সি কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জাল স্ট্যাম্প, সিল, প্রিন্টার, ৩৪টি ভারতীয়  পাসপোর্ট সহ বিভিন্ন সামগ্রী।
Advertisement
সমরেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তার মাথায় রয়েছে হরিদেবপুর এলাকার এক বাসিন্দা। যে কলকাতায় বসে বনগাঁ, বসিরহাট, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ সহ এই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় দালালদের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে। ওই দালালরা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পশ্চিমবঙ্গে  ঢোকানোর পর নিয়ে যাচ্ছে হরিদেবপুরের ওই ব্যক্তির কাছে। যেখান থেকে ভারতীদের মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য পাঠানো হয়। এজেন্সির তরফে দাবি করা হয়, তাদের সঙ্গে টাইআপ রয়েছে  বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার। তাই তাদের মাধ্যমে গেলে চাকরি নিশ্চিত। 
 তদন্তকারীরা ওই এজেন্সি মালিকের সম্বন্ধে খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার বাড়িতে একটি অফিস চলছে। সেখানে যাতায়াত রয়েছে সমরেশের। এখানে জাল আধার, ভোটার, প্যান, মাধ্যমিক–উচ্চমাধ্যমিক সহ বিভিন্ন বোর্ডের সার্টিফেকেট, কলকাতা পুরসভা ও বিভিন্ন পুরসভার  জন্মের শংসাপত্র সহ বিভিন্ন নথি তৈরি হয়। এমনকী ব্যাঙ্কের নকল পাসবুক ও বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের হলফনামা পর্যন্ত জাল করার কাজ চলে এই অফিসে। শুধু পাসপোর্ট তৈরিতে এই নথি নয়, অন্য কাজেও এগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে।  সমরেশের দেওয়া আসল নথি ফটোশপে ফেলে স্ক্যান করার পর তাই দিয়ে জাল নথি তৈরি করছে ওই এজেন্সির কর্মী দীপঙ্কর দাস। রাতেই তল্লাশি চালিয়ে দীপঙ্করকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে এসসিওর অফিসাররা। ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে তার মালিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সিল, স্ট্যাম্প, জাল পাসপোর্ট সহ বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। যদিও সমরেশ ধরা পড়ার পর থেকেই ওই এজেন্সি মালিক পলাতক।
সমরেশেকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, হরিদেবপুরের এই বাড়িতে নথি তৈরির পর সে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করত। ডিআইবির অফিসার ও পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের অফিসারদের কয়েকজনকে ম্যানেজ  করে তথ্য আপলোড করে দিত। তারপর ডাকবিভাগের কর্মীদের একাংশের মাধ্যমে ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে সে হরিদেবপুরে ওই  এজেন্সি মালিককে তুলে দিত। জানা যাচ্ছে, কলকাতার বিভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করা হতো আবেদনের সময়। নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কলকাতা ও রাজ্য পুলিসের কর্মীদের একাংশকে পকেটে পুরেছিল সমরেশ। ভুয়ো নথি দিয়ে কলকাতা থেকে ৩০০০ হাজারের বেশি পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে বলে আদালতে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। জেলা থেকেও আরও ইস্যু করা হয়েছে। 
তদন্তে উঠে এসেছে, ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশিরা ইউরোপে যাওয়ার পর কাজ না পেলে, সেখানে শরণার্থী সেজে আশ্রয় নিত বিভিন্ন ক্যাম্পে। সংশ্লিষ্ট দেশের দালালদের ধরে সেই দেশের পাসপোর্ট জোগাড় করত তারা। ২০২২ সালে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে ফ্রান্সে যায়। ফ্রান্সের পাসপোর্ট তৈরি করে ভারতে ফেরার সময় সে ধরা পড়ে। এরকম কতজন বিদেশে গিয়ে, সেখানকার পাসপোর্ট বানিয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ