কলকাতা: গাড়ি তোলার যন্ত্র দিয়ে বহুতল সোজা করতে গিয়েই বিপত্তি! এমনটাই মত কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের। বাঘাযতীনে হেলে পড়া বহুতল নিয়ে বিতর্কের মাঝেই আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যান মেয়র। সঙ্গে ছিলেন যাদবপুরের তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার ও ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেই তিনি এমন মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, ফিরহাদ আরও জানিয়েছেন, যাঁরা ওই বহুতলে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, তাঁদের পাশে কলকাতা পুরসভা তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকার রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁদের যথাযথ সাহায্য করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। মেয়র জানান, মুখ্যমন্ত্রী চান, সাধারণ মানুষের যেন কোনও ক্ষতি না হয়। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার জন্য হরিয়ানার সংস্থাকেও এদিন দায়ী করেন তিনি। তাঁর দাবি, গাড়ি তোলার যন্ত্র দিয়ে বাড়ি ‘লিফ্টিং’-এর কাজ হয়েছে। আবার বহুতলটি নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা করেও দেখা হয়নি।
স্থানীয়দেরর দাবি, বছর ১০-১২ আগে জলাভূমি ভরাট করে বেআইনিভাবে বহুতলটি তৈরি হয়। এমনকী সেখানে চারতলা বাড়ি নির্মাণের অনুমোদনও ছিল না বলেই অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে বাম সরকারকেই কাঠগড়ায় তোলেন পুরমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কলোনি এলাকায় কোনও বাড়ির প্ল্যান থাকে না। নিজেরাই কমিটি তৈরি করে বাড়ি করে নেওয়া হত। আর বাম আমলে জলাভূমি বোজানোটাই কালচার ছিল। আমরা আসার পর এটা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে। তখন পরিবেশ নিয়ে এত হই হই ছিল না।
কোনও বাড়ির ক্ষেত্রেই প্ল্যানিং হত না। সেই সময়ে অনলাইনে কিছু হত না। ফাইলে সব নথি জমা থাকত। এই বাড়ির ফাইল এখনও খুঁজেই পাওয়া যায়নি! সিপিএম যদি সে সময়ে রাজনীতি না-করত, যদি আরও কড়া হত, তাহলে এই সমস্যা হত না।
বহুতলটি ভাঙার বিষয়ে মেয়র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই ওই বহুতলটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ি ভাঙার কাজে নেওয়া হচ্ছে যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শও। পাশাপাশি, এই কাজের জেরে আশপাশের বাসিন্দাদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে, অবশেষে পুলিসের জালে বহুতলটির প্রোমোটার! ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। পুলিস তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বকখালি থেকে ওই সুভাষ রায় নামক ওই প্রোমোটারকে গ্রেপ্তার করে ফ্রেজারগঞ্জ থানার পুলিস।