Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মমতার সভা ঘিরে আবেগের বেনজির বিস্ফোরণ, হরিপালে চড়া রোদ উপেক্ষা করেই নেত্রীকে দেখতে জনতার ঢল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই উন্মাদনা। বুধবার হরিপালের সাহাপুরের মাঠ আরও একবার তা প্রত্যক্ষ করল। নির্ধারিত সময়ের অনেকটা পরে মাঠে আসেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

মমতার সভা ঘিরে আবেগের বেনজির বিস্ফোরণ, হরিপালে চড়া রোদ উপেক্ষা করেই নেত্রীকে দেখতে জনতার ঢল
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই উন্মাদনা। বুধবার হরিপালের সাহাপুরের মাঠ আরও একবার তা প্রত্যক্ষ করল। নির্ধারিত সময়ের অনেকটা পরে মাঠে আসেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কাঠফাটা রোদ ছিল হুগলিতে। কিন্তু তারপরেও মাঠ যেমন ভিড়ে ঠাসা ছিল, তেমনই উৎসাহ ছিল তুঙ্গস্পর্শী। জননেত্রী এক একটি করে ডাক ছেড়েছেন, মহিলা মহলে তরঙ্গ উঠেছে। মমতা আওয়াজ তুলেছেন, পুরুষদের ভিড় থেকে হুঙ্কার হয়ে তা ফিরে এসেছে। উদ্বেল, ভিড়েঠাসা মাঠে বাঙালিদের জয়গান গেয়ে নৃত্য করেছেন জননেত্রী। তালে তালে নেচেছে মাঠ। সব মিলিয়ে জনসভার মঞ্চ যেন হুগলির বাঙালির আবেগের বিরাট বিস্ফোরণের ধারাবিবরণী হয়ে উঠেছিল।

Advertisement

হরিপালের বিদায়ী বিধায়ক করবী মান্নার জন্য এদিন সভা করেন মমতা। প্রথমপর্বেই তিনি হরিপালের ভিড়কে কুর্নিশ করেছেন। বলেন, বাইরে দাবদাহ। আমার অনেকটা দেরি হয়েছে। তারপরেও আপনারা সভাস্থলে বসে থেকেছেন। লড়াইয়ের জন্য আপনাদের এই আবেগকে আমি কুর্নিশ করি। যে সুর বেঁধেছিলেন জননেত্রী, তারপর প্রায় ৪৫ মিনিট সাহাপুরের মাঠে ছিল সমবেত আবেগের উদযাপনের ছায়াছবি। 
একের পর এক প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে বিঁধেছেন মমতা, আর সমস্বরে তাকে সমর্থন করেছে ভিড়। যখন মমতা ডাক দিয়েছেন বুথ রক্ষার, তখন শপথের ঢঙে হাত আকাশমুখী করেছেন পাপড়ি চট্টোপাধ্যায়, সরস্বতী মালিকরা। বন্দিপুরের পাপড়ির উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। চোয়াল শক্ত করে বিজেপি বিরোধী প্রতিটা আওয়াজে গলা মিলিয়েছেন শেষপর্যন্ত। তিনি বলেন, দিদি ডাক ছেড়েছেন, সেই ডাকে আমাকে তো সাড়া দিতেই হবে। নাহলে নিজের বিবেকের কাছে লজ্জিত হতে হয়। সবার জন্য দিদি লড়ছেন, আর আমরা লড়ব দিদির জন্য। একই সুর শোনা গিয়েছে পাঁটরার সরস্বতী মালিকের গলায়। দিদির ডাকে তাল মিলিয়ে বারবার আওয়াজ তুলেছেন সমীরণ রায়, সুদীপ্ত মালিকরা। সমবেত আওয়াজ আর প্রতিবাদী হাতের ভাষায় আকাশের গনগনে তাপকেও কম মনে হচ্ছিল। শেষপর্বে ছিল নাচ। সারাক্ষণ আগুনে বক্তৃতায় ভিড়কে উদ্বেল করে মঞ্চে নাচের আয়োজন করেছিলেন জননেত্রী। দিদির হাত ধরে সেখানে নেচেছেন কেয়া কোলে। মঞ্চ থেকে নামার পরেও নিজের হাত বারবার দেখেছেন কেয়া। ততক্ষণে অন্যত্র যাওয়ার জন্য মঞ্চ থেকে নেমে পড়েছেন জননেত্রী। কেয়ার মতোই মন্ত্রমুগ্ধ ভিড় আচমকা সচেতন হয়ে উঠল। তিনি হাত নাড়লেন, গর্জন করল মাঠ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ