সংবাদদাতা, ডোমকল: আস্ত এক খানা খাট। তার ওপরে তোষক, চাদর। দু’ পাশে দু’ খানা বালিশ। মাঝে বসে এক ব্যক্তি। ঈদের মরশুমে ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় সাঁই সাঁই করে ছুটছে সেই খাট। না কল্পকথা নয়, ঘোর বাস্তব! ঈদের মরশুমে রানিনগর, ডোমকল সহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় দেখা যাচ্ছে এই চলমান খাট। সেই খাটের সামনে পেছনে চলছে গোটা দশেক মোটর সাইকেল। আশাপাশের লোকজন, পথচারী থেকে যানবাহনের চালকরা দেখে হাঁ! চলছে রিলস তৈরি। ঈদের মরশুমে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলসের ভিউ বাড়াতে এমনই অভিনব যান বানিয়ে চালানো হচ্ছে রাস্তায়। অনেকে বিষয়টিকে নিছক মজা হিসেবে দেখলেও ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে রিলস তৈরি কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এলাকার কিছু যুবক ওই বাহনটি বানিয়েছে। ইঞ্জিনের উপর একটি ফ্রেম তৈরি করে তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে আস্ত খাট। ঈদের দিন বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে বাহনটিকে। বাহনটির একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওইসব ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার ওপরে সাঁই সাঁই করে ছুটছে সেই খাট। সেটির সামনে লাগানো দু’টি লুকিং গ্লাস আর খাটের ওপরে বিছানো তোষক, চাদর বালিশ। খাটের ওপরে বসে একজন স্টিয়ারিংয়ের সাহায্যে বাহনটিকে চালাচ্ছেন। তিনিই আবার ওই খাটের ওপরে উঠে বলিউড তারকাদের মতো পোজ দিচ্ছেন। ঈদের মরশুমে ভিড়ে ঠাসা কাহারপাড়া, শেখপাড়া, গোধনপাড়া, রাইপুর এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে বাহনটিকে ।
বাহনের মালিক নবাব শেখ জানালেন, ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল নতুন কিছু একটা করার। সেই ভাবনা থেকেই এই গাড়ি তৈরি। প্রায় দেড় বছর লেগেছে গাড়িটি তৈরি করতে। ৮০০ সিসি-র একটি ইঞ্জিন ব্যবহার করেছি। তবে এখনও গাড়িটি শেষ হয়নি। আমার ইউটিউব ও ফেবসুকে চ্যানেল আছে, মূলত পাবলিক রিঅ্যাকশন নেওয়ার জন্যই গাড়িটিকে কিছুক্ষণের জন্য বের করেছিলাম।
কিন্তু রিলসের চক্করে রাস্তার ওপর অনুমোদনহীন, বিপজ্জনক এইসব বাহন নিয়ে বেরনো কতটা যুক্তিপূর্ণ, সে প্রশ্নও উঠছে। তবে এই প্রথম নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার রিলসের চক্করে প্রায়শই বিপজ্জনক কাজ করে বসছেন অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। এই যেমন, গত কয়েক বছরে ডোমকল মহকুমার অজগাঁয়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল স্কেটিং। অনেকেই রিলস বানাতে বিপজ্জনক ভাবে রাস্তায় স্কেটিং করছেন। স্কেটের চাকার সঙ্গে মোটরও জুড়েছেন অনেকে। অনেকে রাস্তায় বাইক নিয়ে স্ট্যান্টবাজিও করছেন। ডোমকলের শিক্ষক আবসিনা হাসান বলেন, রিলস তৈরির উন্মাদনায় রাস্তায় চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের উচিত কড়া হাতে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। • নিজস্ব চিত্র