সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৯০০ ফুট উচ্চতায় বক্সা পাহাড়। সেখানেই আদা, এলাচ, স্কোয়াশ চাষ করেন বহু মানুষ। কিন্তু পাহাড়ের সেই উচ্চতা থেকে সমতলে ফসল আনার ঝক্কি অনেক। লাগে অনেকটাই খরচ। বক্সার কৃষকদের সেই অতিরিক্ত খরচের বোঝা কমাতে উদ্যোগী হলেন কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। পাহাড় থেকে আদা, এলাচ, স্কোয়াশ সমতলের নামিয়ে আনার ক্যারিং খরচ বহন করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তিনি। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে খরচের বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে বক্সা পাহাড়ের ১৩টি গ্রামের কৃষকদের। এরজন্য আলিপুরদুয়ার রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি সমতল সান্তলাবাড়িতে একটি কৃষিজ ফসলের সংগ্রহ পয়েন্টও খুলবে।
সম্প্রতি মন্ত্রী বেচারাম মান্না বক্সা পাহাড়ের আদা, এলাচ ও স্কোয়াশ চাষের এলাকা দেখে গিয়েছিলেন। তারপরেই রাজ্যে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী বক্সা পাহাড়ের চাষিদের চাষাবাদের প্রশংসাও করেন।
মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, বক্সা পাহাড়ের চাষিদের কৃষিজ ফসল চাষে একটাই সমস্যা,পরিবহণের কোনও ব্যবস্থা নেই। চাষিদের ফসল বাজারজাত করারও ব্যবস্থা নেই। বক্সা পাহাড়ে পরিবহণের ক্ষেত্রে বনদপ্তরেরও নানারকম বিধিনিষেধও আছে। বক্সা পাহাড়ের চাষিরা উপর থেকে তাঁদের কৃষিজ ফসল লোক দিয়ে ভাড়ে বয়ে সমতলে নামিয়ে আনে। তাতে চাষিদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাই রাজ্য সরকারের কাছে চাষিদের পাহাড় থেকে সমতলে ফসল বয়ে আনার জন্য আলাদা করে ক্যারিং খরচ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বক্সা পাহাড়ে আদা, এলাচ ও স্কোয়াশ চাষ ভালো হয়। কিন্তু ফসল বাজারজাত ও পরিবহণের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা বেশি করে এসব ফসল চাষ করতে চান না। বক্সার চাষিদের এই সমস্যা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছেন মন্ত্রী। তার জন্য সমতল সান্তলাবাড়িতে ফসল কেনার একটি সংগ্রহ পয়েন্ট খুলবে রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি। সংগ্রহ পয়েন্ট থেকে রেগুলেটেড মার্কেট কমিটিই ন্যায্য দামে বক্সা পাহাড়ের চাষিদের ফসল কিনে বাজারজাত করার ব্যবস্থা করতে পারবে।
আলিপুরদুয়ার জেলা রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির সম্পাদক উত্তম ভৌমিক বলেন, সান্তলাবাড়িতে বক্সা পাহাড়ের চাষিদের ফসল কেনার সংগ্রহ পয়েন্ট চালুর প্রস্তাব রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের ফসলের ক্যারিং খরচ দেওয়ারও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।