Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বিদ্যাধর ও জয়পুর শহর

রাজস্থানের জয়পুর। নামটা শুনলেই প্রথমে মাথায় আসে—‘পিঙ্ক সিটি অব ইন্ডিয়া’। গোলাপি শহরের পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে রাজা-মহারাজার ইতিহাস, রাজপুত সংস্কৃতি আর যন্তর-মন্তর, আমের দুর্গের মতো নজরকাড়া স্থাপত্য।

বিদ্যাধর ও জয়পুর শহর
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
রাজস্থানের জয়পুর। নামটা শুনলেই প্রথমে মাথায় আসে—‘পিঙ্ক সিটি অব ইন্ডিয়া’। গোলাপি শহরের পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে রাজা-মহারাজার ইতিহাস, রাজপুত সংস্কৃতি আর যন্তর-মন্তর, আমের দুর্গের মতো নজরকাড়া স্থাপত্য। আর এইসব কিছুতে রয়েছে এক বাঙালির ছোঁয়া। হ্যাঁ,দেশের অন্যতম সুন্দর এই শহর গড়ার নেপথ্যে রয়েছেন নৈহাটির বাসিন্দা বিদ্যাধর ভট্টাচার্য। তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছিল ভারতের প্রথম পরিকল্পিত শহর জয়পুরের রূপরেখা। সম্প্রতি পালিত হল জয়পুরের প্রতিষ্ঠা দিবস।
Advertisement
১৬৯৩ সালে নৈহাটির এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম বিদ্যাধরের। পরে কর্মসূত্রে চলে আসেন রাজস্থানে। ১৭২৭ সালে আমেরের রাজদরবারে জুনিয়র অডিটরের চাকরি পান। কোষাগার সামলানোর পাশাপাশি বিদ্যাধরের স্থাপত্যজ্ঞান, প্রাচীন বাস্তুশাস্ত্রের প্রতি অনুরাগ তৎকালীন রাজা দ্বিতীয় সওয়াই জয় সিংয়ের নজর কাড়ে। এদিকে মুঘল আমলে সুজাউদ্দিন খাঁ সিংহাসনে বসার পর আমেরের উপর আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। শহরটির উপর নজর পড়ে মারাঠাদেরও। বাইরের শত্রু ও রাজ্যের অন্দরে জলাভাব, দুর্ভিক্ষ সহ নানা সমস্যার জেরে রাজ্যপাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন জয় সিং। সেই সূত্রেই নতুন রাজধানী সাজানোর ভার পড়ে বিদ্যাধরের কাঁধে। প্রায় চার বছরের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে সওয়াই জয়পুর। পরে সেই নাম বদলে হয় জয়পুর। প্রথমে মোট ন’টি ক্ষেত্রে ভাগ করা হয় পুরো শহরকে। দু’টি ক্ষেত্র রাখা হয় রাজাদের বাসস্থান ও প্রশাসনিক কার্যালয়ের জন্য এবং বাকি সাতটি বরাদ্দ করা হয় সাধারণ মানুষের জন্য। শহরের নিরাপত্তায় চারদিকে তৈরি হয় উঁচু পাঁচিল। প্রাচীন বাস্তুশাস্ত্রের গ্রিড মডেলের অনুকরণে তৈরি করা হয় জয়পুরের রাস্তাঘাট। শোনা যায়, পরে বিদ্যাধরকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছিলেন রাজা দ্বিতীয় সওয়াই জয় সিং।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ