Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিদেশ থেকে নিম্নমানের চা আমদানি উত্তরের চা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন মালিকরা

বিদেশ থেকে নিম্নমানের চা আমদানি উত্তরের চা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন মালিকরা
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: উত্তরের চা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে মালিকরা যে উদ্বিগ্ন তা নতুন কিছু ঘটনা নয়। শনিবার চা মালিক সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (টাই) বার্ষিক সম্মেলনে ফের সেই উদ্বেগের কথা উঠে এল। এদিন কালচিনির ভার্নাবাড়ি চা বাগানের তোর্সা জিমখানা ক্লাবে টাইয়ের এই বার্ষিক সম্মেলন হয়।
Advertisement
উত্তরের চা মালিক সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সংগঠন টাই। এদিন টাইয়ের বার্ষিক সম্মেলনে দেশে চায়ের বাজার ও উৎপাদন খাদের কিনারায় আসার জন্য ঘুরিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ থেকে নিম্নমানের চা আমদানি নীতিতেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উত্তরের চা চাষে প্রতি বছর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা ও পোকামাকড়ের উপদ্রবের বিষয়টি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এদিন সম্মেলনে দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য রাখেন টাইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল প্রবীর ভট্টাচার্য ও সংগঠনের উত্তরবঙ্গ শাখার চেয়ারম্যান চিন্ময় ধর। 
দু’জনের বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, এবার দেশে ১০৯ মিলিয়ন কেজি চা কম উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন কম হওয়ার জন্য অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মেই দেশের বাজারে এবছর চায়ের দাম বৃদ্ধি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এদিন টাইয়ের সম্মেলন থেকে কেনিয়া, নেপাল ও ভিয়েতনাম সহ ৬-৭টি দেশের নিম্নমানের চা দেশীয় বাজারে অবাধে ঢোকার কারণকেই ঠারেঠোরে দায়ী করা হয়েছে। বিদেশের নিম্নমানের চা দেশের বাজারে ছেয়ে যাওয়াতেই দেশীয় চা শিল্প দুর্দশায় পড়েছে। টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার নির্দেশে দেশীয় উচ্চমানের এক কেজি চা পাতা উৎপাদনে খরচ হয় ২৫০ টাকা। সেখানে ওই সব ভিনদেশে এক কেজি চা পাতা উৎপাদনে খরচ হচ্ছে মাত্র ৭০ টাকা। 
এদিন সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিদেশ থেকে অবশ্যই চা আমদানি হোক। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানিকৃত চায়ে ১০০ শতাংশ কর আরোপ করা উচিত। চা শিল্প মহলের অভিযোগ, বিদেশ থেকে আসা নিম্নমানের চায়ে ভারতীয় চায়ের লেভেল সেঁটে দিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের সিটিসি ও অর্থোডক্স চা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি টি বোর্ডের অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত। চা শিল্প মহলের অভিযোগ, ভারতের চা নেপালে গেলে সেখানে ৪০ শতাংশ ট্যাক্স কেটে নেয়। অথচ নেপালের চা বিনা ট্যাক্সে অবাধে ভারতের বাজারে ঢুকছে।
সম্মেলনে প্রবীরবাবু বলেন, আমরা টি বোর্ডের সমস্ত নির্দেশ মেনেই চা উৎপাদন করে চলেছি। কিন্তু টি বোর্ডও আমাদের দাবি ও প্রস্তাবগুলি ভেবে দেখবে বলে আশা করি। চিন্ময়বাবু বলেন, সম্মেলনে চায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। আমরা একটি রিপোর্ট তৈরি করে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রকে পাঠাচ্ছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ