নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোগীমৃত্যুর ঘটনায় ফের বেআব্রু হয়ে পড়ল স্বাস্থ্যদপ্তরের রেফার ব্যবস্থা। অভিযোগের আঙ্গুল প্রধানত রাজ্যের এক নম্বর সরকারি হাসপাতাল পিজি’র দিকে। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়ায়, মাথায় গুরুতর চোট পাওয়া রোগীকে নিয়ে এন আর এস, পিজি ঘুরে শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে ভর্তির জন্য দরবার করতে হয় বাড়ির লোককে। সেখান থেকে চিঠি এনে রোগীকে নিয়ে ফের পিজি হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা জানায়, তিনি মারা গিয়েছেন। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বেলায়। এরপরই সুশীল হালদার নামে গড়িয়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তির স্ত্রী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বলেন, সোমবার রাত থেকে এই হাসপাতাল আর সেই হাসপাতাল ঘুরপাক খাচ্ছি। শেষমেশ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে চিঠি নিয়ে আসতে হল। তাতেও শেষরক্ষা হল না। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের কী হবে? বাড়ির লোকজন জানান, মাঝবয়সি সুশীলবাবু সোমবার রাতে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান। তাঁকে প্রথমে পিজিতে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বলে, বেড নেই। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় এন আর এস’এ। সেখানেও একই কথা। লাট্টুর মতো চড়কিপাক খাচ্ছেন দেখে ভোরবেলায় রোগীকে নিয়ে সোজা মমতার কালীঘাটের বাড়িতে চলে যান সুশীলবাবুর দাদা এবং সুশীলবাবুর স্ত্রী।
Advertisement
একা সুশীলবাবুর বাড়ির লোকজনেরই এই ক্ষোভ নয়, রেফার ব্যবস্থা নিয়ে এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের রোগী প্রবীর সাহার বাড়ির লোকজনও। তাঁদেরও অভিযোগ এন আর এস এবং পিজি হাসপাতালের দিকে। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা প্রবীরবাবুর আত্মীয় যাদব নুনিয়া বলেন, ‘৩ নভেম্বর রাতে ঠাকুর দেখে টোটোতে ফেরার পথে প্রবীরবাবু টোটো থেকে পড়ে যান। বাম পায়ে মারাত্মক চোট পান। তখন রাত সাড়ে ১১টা বাজে। আমরা ওকে বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করি। সেখানে বলা হয়, প্লাস্টিক সার্জারি করতে হবে। কলকাতার কোনও মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। আমরা ৪ নভেম্বর বেলার দিকে এন আর এস’এ নিয়ে যাই। সেখানে ভর্তি করল না। বলল, বেড নেই। তারপর নিয়ে গেলাম পিজিতে। সেখানেও বলল, বেড নেই। বেশি কথা বাড়াবেন না। ১০ মিনিটের মধ্যে নিয়ে চলে যান। আমরা সারা রাত পিজি’র ট্রমা সেন্টারে ওইরকম চোট পাওয়া রোগীকে নিয়ে পড়ে থাকলাম। কোনও লাভ হল না। তারপর একে ওকে ফোন করে বহুকষ্টে রোগীকে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেছি। আমার সাফ কথা, কলকাতার হাসপাতালে বেড নিশ্চিত না করে আমাদের কেন বহরমপুর থেকে রেফার করা হল? আমাদের কি চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নেই? তাহলে পিজি হাসপাতালে ওইরকম দূরদূর করে তাড়িয়ে দিল কেন? অ্যাম্বুলেন্সে এই হাসপাতাল সেই হাসপাতাল করে বিল ১০ হাজার টাকা পার হয়ে যায়। সেই টাকা সরকার দেবে?’ বক্তব্য জানতে পিজি’র সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ পীযূষকান্তি রা ফোন ধরেননি। এন আর এস’এর অধ্যক্ষ ডাঃ পীতবরণ চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



