নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বাবা-মা নেই। পরিবার বলতেও নেই কিছু। হোমে বড় হয়ে ওঠা। সেখানেই পড়াশোনা। এবার জলপাইগুড়ির দু’টি হোম থেকে মাধ্যমিক দিচ্ছে দুই ছাত্র-ছাত্রী।
Advertisement
একজন জলপাইগুড়ির ‘কোরক’ হোমে রয়েছে সাত বছর বয়স থেকে। শহরের আনন্দ মডেল হাইস্কুলের ছাত্র। অন্যজন, প্রথমে শিলিগুড়ির একটি হোমে ছিল। সেখান থেকে আসে জলপাইগুড়ির একটি হোমে। বছর খানেক আগে ফের ঠিকানা বদল হয় তার। বর্তমানে জলপাইগুড়ির ‘অনুভব’ হোমের ওই ছাত্রী শহরের পূর্বাঞ্চল হাইস্কুলের পড়ুয়া। পড়াশোনায় আগ্রহ দেখে দু’জনের জন্যই বিশেষ ব্যবস্থা করে হোম কর্তৃপক্ষ। স্কুল তো আছেই, ভালোভাবে যাতে তারা মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে, সেজন্য প্রাইভেট টিউশনেরও ব্যবস্থা করা হয় হোমের তরফে। ‘কোরক’ হোমের সুপার গৌতম দাস বলেন, আমাদের যে ছেলেটি এবার মাধ্যমিক দিচ্ছে, তার বাবা-মা কেউ নেই। আলিপুরদুয়ারে বাড়ি। মা আগে মারা গিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যু হতেই প্রতিবেশীরা ছেলেটিকে আমাদের হোমে দিয়ে যান। সেই থেকে ও এখানে রয়েছে। আমরা ওকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। পড়াশোনায় আগ্রহ রয়েছে ওর। মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষাতেও ভালো ফল করেছে। যাতে মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করতে পারে, সেজন্য হোমের তরফে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা প্রাইভেট টিউটর দেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে প্রাইভেট টিউটররা এসে পড়িয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, ‘অনুভব’ হোমের কো-অর্ডিনেটর দীপশ্রী রায় বলেন, আমাদের যে মেয়েটি এবার মাধ্যমিকে বসছে, সে খুব ছোট থেকেই হোমে। নিজের বাড়ি, বাবা-মা সম্পর্কে কিছুই মনে নেই। আমরা ওকে জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছি, মেয়েটির শুধু মনে আছে, খুব ছোটবেলায় শিলিগুড়ির একটি হোমে চলে আসে। কিন্তু কারা সেখানে রেখে গিয়েছিল, জানাতে পারেনি। মেয়েটি ওই হোমে দীর্ঘদিন ছিল। এরপর জলপাইগুড়ি রায়কতপাড়ায় শিক্ষাদপ্তরের একটি হোমে বেশকিছু দিন ছিল মেয়েটি। কিন্তু যেকোনও কারণে হোক না কেন, ওই হোম থেকে মেয়েটি একসময় পালিয়ে যায়। পরে পুলিস উদ্ধার করে। তারপর থেকে মেয়েটি আমাদের হোমে রয়েছে। পূর্বাঞ্চল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ও। ওর পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য হোমের তরফে প্রাইভেট টিউটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।



