যোধপুর রাজপ্রাসাদ, বিশ্বরূপ দর্শন, সময় ! থিমের লড়াই পলতা-ইছাপুরে
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: কলকাতার বাইরে দুর্গাপুজোর ‘ডেস্টিনেশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে কল্যাণী। কিন্তু বছরকয়েক আগে পলতা নেতাজি সংঘ পুজোর মানচিত্রে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। ২০০৬ সালে স্টেডিয়াম এবং ২০০৮ সালে তাজমহল তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল তারা। এই অপূর্ব সৃষ্টি দেখতে মানুষের ভিড় ভেঙে পড়েছিল। এত ভিড় হয়েছিল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এবছর ৩৫তম বর্ষে রাজস্থান যোধপুরের রাজবাড়ি জাসবন্ধ ঠাডা প্যালেসের অনুকরণে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ।

Advertisement

৮৫ ফুট উচ্চতার দেখার মতো ওই মণ্ডপ দর্শনার্থীদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে ২৪ বাই ২৪ ফুটের ঝাড়বাতি। যা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো ঝাড়বাতি হবে বলে দাবি করেন পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা সুপ্রিয় দে। তিনি বলেন, এবারের মণ্ডপ দর্শনার্থীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আমাদের পুজোর উদ্বোধন পঞ্চমীতে। উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী অর্জুন সিং।
শুধু পলতা নয়, নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পাশের স্টেশন ইছাপুর আনন্দমঠ এলাকায় দুটি পুজো কলকাতার পুজোকে টেক্কা দিতে পারে। ইছাপুর আনন্দমঠ হরিসভা সর্বজনীন দুর্গোৎসবের ৭৮তম বর্ষের থিম, ‘সৃষ্টির অন্তরে যিনি, তিনি বিশ্বরূপে’। এই পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা  সরিৎবরণ গোস্বামী বলেন, মাদুর্গা আদ্যাশক্তি মহামায়া। তাঁর শক্তিতেই আমাদের পথচলা। সমস্ত সৃষ্টি এক সূত্রে গাঁথা। ঈশ্বর বা শক্তির রূপ সর্বব্যাপী। সেই শক্তির মাহাত্ম্যই তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে দর্শকরা মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের একটি অংশ দেখতে পারবে। অর্জুনকে যেমন বিশ্বরূপ দেখানো হয়েছিল, ঠিক তেমনি এই মণ্ডপে বিশ্বরূপ দেখানোর ব্যবস্থা আছে। ৩৪ ফুট উঁচুতে রয়েছে ভগবানের সেই বিশ্বরূপ। যার পায়ের তলা দিয়ে গিয়ে সকলকে দেবীদর্শন করতে হবে। বোলপুরের প্রখ্যাত শিল্পী সঞ্জয় সাহা এই ভাবনাকে বাস্তবায়িত করবার জন্য সবরকম প্রয়াস চালিয়েছেন। সহযোগিতা করছেন চাকদহের প্রদীপ মিত্র। 
আরেকটি উল্লেখযোগ্য পুজো হল ইছাপুর আনন্দমঠ কেন্দ্রীয় সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো। এবার ৭৬তম বর্ষের থিম হল—‘সময়’। সময় হচ্ছে সবচেয়ে বলবান। মণ্ডপটি সাজিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলা। একসময় পুতুল নাচ হত। মানুষ পুতুলকে নাচাত। প্রাচীন যুগ থেকে সময়ের পরিবর্তনে আজকে এআই-এর যুগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে নাচাচ্ছে। আমার এই পরিবর্তন আলোর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। দর্শকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এই সৃষ্টি। ১৩ অক্টোবর এই পুজোর উদ্বোধন করবেন অর্জুন সিং। 
তিনি বলেন, আমার বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বেশ কয়েকটি দেখার মতো পুজো হয়। যেখানে থিম ও সাবেকিয়ানার মেলবন্ধন হয়েছে। আমাদের সরকার চায় ভালো করে দুর্গাপুজো হোক। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সাহায্য করছি। শুধু বারোয়ারি বা ক্লাবের পুজো নয়, অনেক বনেদিবাড়িরও পুজো হয় ইছাপুর এলাকায়।