Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

নন্দীবাড়ির বাসন্তী আরাধনা

নন্দীবাড়ির বাসন্তী আরাধনা
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমগ্র পল্লির মঙ্গল কামনায় বাসন্তী দুর্গাপুজো। ৮২ বছর আগে এই পুজো শুরু হয়েছিল বরানগরে রাজকুমার মুখার্জী রোডের নন্দীবাড়িতে। গৃহকর্তা তথা ব্যবসায়ী ফটিকচন্দ্র নন্দীর হাত ধরে সূচনা হয় মাতৃ আরাধনার। ছোট্ট একটি ঘরে এক কাঠামোর পাঁচ ফুটের মাটির প্রতিমায় শুরু হয়েছিল দেবীর আরাধনা। সেই রীতি মেনে আজও পুজো হয় নন্দীবাড়িতে। মূল পুজো হয় সপ্তমীতে। ওই দিন নানা উপাচারে দেবীর পুজো করা হয়। নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয় বিভিন্ন রকমের ফল, মিষ্টি, লুচি, ভাজা, ছ্যাঁচড়া, তরকারি, চাটনি। মায়ের পায়ে নিবেদন করা হয় ১০৮টি গোলাপি পদ্ম। এই পুজোর মূল বৈশিষ্ট্য হল চামুন্ডার বিশেষ আরাধনা। এখন যে মাতৃবেদি রয়েছে, তার সামনে আজও স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত রয়েছে প্রথম পুজোর ঘট। বেদিতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দেবদেবীর মাটির ঘট, সরা সহ অন্যান্য প্রাচীন দ্রব্যাদি। কথা প্রসঙ্গে বাড়ির সদস্য চন্দ্রশেখর নন্দী ও তাঁর স্ত্রী রুমা নন্দী জানান, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়ির প্রতিষ্ঠিত মাতৃপ্রতিমার নানান অংশ ভেঙে পড়ছিল। শেষে প্রতিমার ফটো তুলে বাঁধিয়ে বেদির উপর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাচীন প্রতিমাটি নিরঞ্জন করা হয় স্থানীয় পঞ্চাননতলার কাছে কলভিন ঘাটে। বর্তমানে ঠাকুর ঘরটির অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গীন। তাই এখন মূল পুজো হয় নন্দীবাড়ির নতুন পাকা দালানে। সেখানে বিশাল একটি সুসজ্জিত সিংহাসনে শোভা পাচ্ছে দেবী বাসন্তীর একটি ছবি। পুরনো ঠাকুর ঘরের বেদিতেও বাসন্তী দুর্গার একটি ছবি রয়েছে। তাতেও নিত্যপুজো হয়। চন্দ্রশেখরবাবুর পুত্র পুষ্পেন্দু নন্দী জানান, এখনও অনেকে আমাদের বাড়ির প্রাচীন বাসন্তী প্রতিমার ছবিটি দেখতে আসেন। বরানগরের বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থের লেখক প্রয়াত অজিত সেন, বৈদ্যনাথ হালদার, চন্দ্র রায় তাঁদের গ্রন্থে বরানগরের বিভিন্ন প্রাচীন পূজা-পার্বণের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে নন্দীবাড়ির পুজোর কথা উল্লেখ করেছেন। বরানগরের অপর এক ইতিহাস গ্রন্থের লেখক ডঃ দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বরানগরে নন্দীবাড়ির প্রাচীন বাসন্তী পুজো এ অঞ্চলের গর্বও বটে।’

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ