Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নোটের ভুয়ো বান্ডিল দেখিয়ে গয়না হাতাত বারুইপুর গ্যাংয়ের সদস্যরা, পূর্ব মেদিনীপুরে ১২টি কেস

নোটের ভুয়ো বান্ডিল দিয়ে প্রতারণার জাল পাতা হত। টার্গেট করা হত বয়স্ক মহিলা এবং গ্রামের সাদাসিধে মানুষজনকে।

নোটের ভুয়ো বান্ডিল দেখিয়ে গয়না হাতাত বারুইপুর গ্যাংয়ের সদস্যরা, পূর্ব মেদিনীপুরে ১২টি কেস
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নোটের ভুয়ো বান্ডিল দিয়ে প্রতারণার জাল পাতা হত। টার্গেট করা হত বয়স্ক মহিলা এবং গ্রামের সাদাসিধে মানুষজনকে। নকল বান্ডিল ধরিয়ে গয়না হাতিয়ে নিত বারুইপুর গ্যাং। গত ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে রঙ্গলাল শেখ, মন্দিরবাজার থেকে রাজু মোল্লা, কুলপি থেকে বিক্রম পুরকাইত এবং জয়নগর থানা এলাকা থেকে পার্থজিৎ হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পাঁশকুড়া জিআরপি। সোমবার ধৃতদের নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে জিআরপি। পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন থানায় এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি কেস রয়েছে। তমলুক, কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, নন্দকুমার সহ বিভিন্ন জায়গায় নোটের ভুয়ো বান্ডিলের লোভ দেখিয়ে বয়স্ক মহিলাদের কাছ থেকে গয়না হাতিয়ে নিত দুষ্কৃতীরা।

Advertisement

গত ২ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়া থানার বৃন্দাবনচক গ্রামের এক বয়স্ক দম্পতিকে স্টেশন এলাকায় টার্গেট করে ওই গ্যাং। একজন এসে ২০ লক্ষ টাকা ভর্তি ব্যাগ হারিয়ে নেওয়ার মিথ্যা গল্প তৈরি করে বয়স্ক দম্পতির সামনে। সেই ব্যক্তি চলে যাওয়ার পর দ্বিতীয় জন আসে। ওই বয়স্ক দম্পতির কাছে বিপুল টাকা কুড়িয়ে পাওয়ার নাটক করে। ব্যাগের ফাঁক দিয়ে কিছু বান্ডিলও দেখায়। 
এরপর ওই দম্পতিকে একটু দূরে ডেকে নিয়ে গিয়ে টাকার ভাগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। শুভাকাঙ্ক্ষী সাজার অভিনয় করে বয়স্ক দম্পতিকে শরীর থেকে গয়না খুলে ব্যাগের মধ্যে রাখার প্রস্তাব দেয়। তারপর ব্যাগ ভর্তি ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওইসব গয়না কেনার লোভ দেখিয়ে হাতানোর পর ওই দম্পতি বাড়ি ফিরে দেখেন, সব ভুয়া। কাগজের বান্ডিলের উপর দু’-একটা একশো টাকার নোট। এভাবে প্রতারিত হয়ে তাঁরা ২ সেপ্টেম্বর জিআরপি থানায় এফআইআর করেছিলেন। তমলুক শহরেও ওই গ্যাং হাসপাতাল মোড়, নিমতৌড়ি, রাধামণি এবং পদুমবসানে বেশ কয়েকবার অপারেশন চালিয়েছে। এমনকি নার্সিংহোমে ভর্তি থাকা ছেলেকে দেখতে আসার পথে অসহায় মা তমলুকের নিমতৌড়িতে ওই গ্যাংয়ের হাতে প্রতারিত হয়েছেন। রঙ্গলাল এর আগেও বহুবার গ্রেপ্তার হয়েছে। জামিন পাওয়ার পরই ফের পুরনো ফর্মে অপারেশন করত।
পাঁশকুড়া জিআরপি থানার এক অফিসার বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন থানায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ১২টি কেস রয়েছে। এছাড়া এই গ্যাং পূর্ব মেদিনীপুরের বাইরেও অপারেশন চালায়। গত ২ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়ার বৃন্দাবনচক গ্রামের ও দম্পতির কাছ থেকে বেশকিছু সোনার গয়না হাতিয়ে চম্পট দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সিসি ক্যামেরায় তাদের ছবির সূত্র ধরে পাঁশকুড়ার কনকপুর থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের বাড়ি দক্ষিণ ২৪পরগনার বিভিন্ন থানা এলাকায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ