প্রেমের ‘শাস্তি’ দিতে বর্বরতা বেহালায়, নগ্ন করে ঘোরানো হল প্রেমিকের পরিবারকে!
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সৌদি আরব নয়, খাস কলকাতা। প্রেমের শাস্তি। প্রেমিকাকে চুম্বন করার শাস্তি। সেই বর্বরতায় প্রেমিক, তাঁর বাবা ও এক বন্ধুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নগ্ন করে হাঁটানো হল বেহালার রাস্তায়। ৫০ মিটার পর্যন্ত! ওই তিনজনকে আটকে পিস্তল দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। 

Advertisement

রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে সরশুনার ক্ষুদিরাম পল্লিতে। ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই জানাজানি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস ছয়েক আগে ওই সদ্য আঠারো পেরনো কিশোর প্রণয় ঘটিত সম্পর্কে জড়ায় নাবালিকা কিশোরীর সঙ্গে। সে কথা প্রেমিকার পরিবারের কেউ জানত না। রবিবার সন্ধ্যায় সরশুনার খালপাড় মাঠ এলাকায় দেখা করে প্রেমিকা-প্রেমিকা। তাদের সঙ্গে এক বন্ধুও ছিল। সেখানেই প্রেমিক ওই নাবালিকাকে চুম্বন করে। ঘটনাচক্রে ওই এলাকা দিয়ে তখনই যাচ্ছিলেন প্রেমিকার মামার বন্ধু। ওই দৃশ্য তিনি দেখে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে জানান নাবালিকার মামা ও বাবাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন বাবা প্রদীপ সরকার ও মামা রাহুল। প্রেমিক ও তার বন্ধুকে তুলে নিয়ে যান তাঁদের ক্ষুদিরাম পল্লির বাড়িতে। তারপর শুরু হয় বেধড়ক মারধর। সেইসঙ্গে আরও চার-পাঁচজনকে বাড়িতে ডেকে পাঠান নাবালিকার বাবা। তারা এসে পৌঁছালে ছেলেটিকে বলা হয়, ‘বাবাকে ডেকে পাঠা’। ভীত-সন্ত্রস্ত কিশোর সেইমতো ফোন করে বাবাকে আসতে বলে। ছুটে আসেন রতন মল্লিক। তখন রাত প্রায় ৮টা। ওই কিশোরের বাবার অভিযোগ, মারধর করা হয় তাঁকেও। এরপর প্রেমিকার মামা পিস্তল বের করেন। বাট দিয়ে মারেন তিনজনকেই। শারীরিক তো বটেই, মানসিকভাবেও হেনস্তা করা হয় তাঁদের। রতনবাবুর দাবি, চুম্বনের শাস্তি হিসাবে তাঁদের তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়। প্রথম, ওই পিস্তল দিয়ে তাঁর ছেলেকে সকলের সামনে গুলি করে খুন করতে হবে। দ্বিতীয়, ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করতে হবে। এর জন্য নাবালিকার মা ছুরি গরম করেও নিয়ে আসে। কিন্তু রতনবাবু রাজি হননি। বলেন, এর থেকে তাঁকে গুলি করে মেরে দিক। পালটা হুমকি দেন নাবালিকার পরিবারের লোকজন—ধর্ষণ ও পকসো মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার। ভয় পেয়ে যান কিশোর ও তাঁর বাবা। তখন দেওয়া হয় তৃতীয় বিকল্প—জামাকাপড় খুলে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। রতনবাবু, তাঁর ছেলে ও বন্ধু বাধ্য হন এই ‘প্রস্তাবে’ রাজি হতে। পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে তাঁদের জামাকাপড় খোলানো হয়। এরপর নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। নিরীহ রতনবাবুকে এভাবে রাস্তায় হাঁটানো হচ্ছে দেখে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন ও রুখে দাঁড়ান। স্থানীয়রা তিনজনকে জামাকাপড়ও কিনে দেন। এই ঘটনা মোবাইলে তুলে রেখেছিলেন এলাকার এক বাসিন্দা। সেটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। তারপর প্রেমিক সহ তিনজনই আসেন সরশুনা থানায়। সেখানে রতনবাবু লিখিত অভিযোগ করেন ওই নাবালিকার বাবা, মা ও মামার বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তরা প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ। তাঁর হয়ে এলাকায় গুন্ডাগিরি করত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানা খুনের চেষ্টা, অপহরণ, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। সোমবার সকালেই পুলিশ প্রদীপ সরকার, মামা রাহুল বর্মন ও মা রিঙ্কু সরকারকে গ্রেপ্তার করে। এদিনই আলিপুর আদালতে তোলা হয় তাঁদের। সরকারি আইনজীবী শুভাশিষ ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভয়ংকর ঘটনা।’ সওয়াল শেষে অভিযুক্তদের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। অভিযুক্তদের জেরা করে আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।