শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: এক সময় ঘরে-বাইরে অপমানিত হতে হয়েছে মহিলাদের। কখনো সমাজের চোখরাঙানি, কখনো অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া। কখনো নিজের যোগ্যতা প্রমাণের লড়াই। সেই বাধা পেরিয়েই আজ নারীরা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তাঁদের দীর্ঘ লড়াই, যন্ত্রণা, প্রতিবাদ ও সাফল্যের কাহিনি এবার দুর্গা মণ্ডপে তুলে ধরছে বারাসতের শেঠপুকুর সর্বজনীন পুজো সমিতি। ৭২ তম বর্ষে তাদের থিম ‘নারীকথা’। নারী ক্ষমতায়নের ভাবনায় এবার মণ্ডপ হয়ে উঠবে মহিলাদের সংগ্রাম ও উত্তরণের আখ্যান।
দেবী দুর্গা শক্তির প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়লাভের কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে তাঁর আরাধনার সঙ্গে। বাস্তবেও নারীদের পথচলা যেন এক নিরন্তর সংগ্রাম। সামাজিক বাধা, বৈষম্য, অবহেলা ও অপমানের বিরুদ্ধে লড়াই করেই তাঁদের এগিয়ে যেতে হয়েছে। সেই লড়াইয়ের ছবি এবার শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। তবে মণ্ডপে অসুর বধের দৃশ্য থাকছে না। দেবীর শক্তির ভাবনার সঙ্গে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নারীদের জয়ের কাহিনিকে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মণ্ডপে ফুটে উঠবে নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়। একদিকে থাকবে অতীত। সেখানে থাকবে মহিলাদের লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার ছবি। অন্যদিকে থাকবে সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ এবং ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনি। মেদিনীপুরের শিল্পী রঘুনাথ জানার পরিকল্পনায় তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। প্লাই, মাটি, প্লাস্টার অব প্যারিস, বাঁশ, কাঠ, বস্তা সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে থিমের ভাবনা। দালানবাড়ি পেরিয়ে মণ্ডপে ঢুকতে হবে দর্শনার্থীদের। গোটা পরিসর জুড়ে থাকবে নারী জীবনের নানা অধ্যায়। প্রতিটি মডেলে উঠে আসবে তাঁদের লড়াইয়ের আলাদা আলাদা দিক। কোথাও থাকবে অপমানের বাস্তবতা, কোথাও প্রতিবাদের ভাষা, আবার কোথাও থাকবে জয়ের উজ্জ্বল ছবি। এই লড়াইয়ের কাহিনি শুধু চোখে দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মণ্ডপে প্রবেশ করলে শোনা যাবে নারীদের সংগ্রাম নিয়ে নানা কথা। শব্দের ব্যবহারে তুলে ধরা হবে তাঁদের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। দৃশ্য ও শব্দের মেলবন্ধনে দর্শনার্থীরা বুঝতে পারবেন, আজকের সাফল্যের পিছনে রয়েছে কত বাধা অতিক্রম করার ইতিহাস। দেবী যেখানে পূজিত হবেন, সেই অংশের চারপাশে তুলে ধরা হবে গর্ভবতী মায়েদের কাহিনি। প্রতিমা নির্মাণ করছেন শিল্পী সুভাষ পাল। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই থাকছে সাবেকি প্রতিমার রূপ।
পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা তনুজ চক্রবর্তী বলেন, এক সময় মহিলাদের নানা ধরনের অপমান ও অবহেলার মুখে পড়তে হয়েছে। অধিকার ও পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে তাঁদের অনেক বাধা পেরতে হয়েছে। আজ তাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছেন। সেই সাফল্যের পিছনে যে দীর্ঘ লড়াই রয়েছে, সেটাই আমাদের থিমের মূল বিষয়। আমাদের পুজোর বাজেট আট লক্ষ টাকা।



