নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা! থানা থেকেই গ্রেপ্তার কর্তব্যরত সাব ইনস্পেক্টর (এসআই)! সোমবার দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া ব্যাঁটরা থানাতে। ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রাজ্য দুনীর্তি দমন শাখার আধিকারিকরা তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছেন। ধৃত এসআইয়ের নাম সুব্রত সরকার।
রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দাদের এক সূত্র জানাচ্ছে, বধূ নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্ত স্বামী অভিজিৎ রুইদাসকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ চেয়ে ফোনে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিলেন এই এসআই। টাকা না পেলে, অভিজিতকে গ্রেপ্তার করার হুমকি দেন তিনি। এদিন ছিল ঘুষের টাকা মেটানোর শেষ দিন। সেই মতো ফাঁদ পেতে ছিলেন রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দাদের একটি দল।
উল্লেখ্য, হাওড়ার কৈলাশ দাস লেনের বাসিন্দা পুজা রুইদাসের সঙ্গে হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা অভিজিতের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই অভিজিৎ টাকার জন্য পুজাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ। গত ১আগস্ট স্থানীয় ব্যাঁটরা থানায় পুজা স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। যার ভিত্তিতে তদন্ত করছিলেন থানার ওই এসআই।
অভিযোগ, তদন্তে নেমেই ওই এসআই ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন অভিযুক্ত স্বামী অভিজিতের কাছে। পুলিশ অফিসারের হুমকি ফোনের জেরে তিতিবিরক্ত হয়ে অভিজিৎ রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখায় ফোনে যোগাযোগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মাঠে নামেন গোয়েন্দারা। সোমবার ব্যাঁটরা থানায় অভিজিতবাবুর হাত থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া মাত্রই দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দারা ওই এসআইকে হাতেনাতে পাকড়াও করে।
অন্যদিকে, সোমবার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে সোমবার এক দালালকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করলেন দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দারা। ধৃতের নাম শাহাবুদ্দিন মল্লিক। অভিযোগ, সে টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রি করছিল।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ আসছিল, পাঁশকুড়া হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত নিতে গেলে, হেনস্থার শিকার হচ্ছেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দারা জানতে পারেন, এই ব্লাড ব্যাংকের একশ্রেণির অসাধু কর্মী রক্ত নেই, বলে ফিরিয়ে দিতেন রোগীর আত্মীয় পরিজনকে। কিন্তু দালাল ধরলেই, মোটা টাকার বিনিময়ে রক্ত মিলছিল। কিন্তু যে রক্ত মেলার কথা বিনামূল্যে। রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার এক সূত্র জানাচ্ছেন, ‘এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাংকের কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ কারণ, ব্লাড ব্যাংকের কর্মীদের সাহায্য ছাড়া, এভাবে বহিরাগত কারও পক্ষে মোটা টাকার বিনিময়ে রক্ত বিক্রি করা কার্যত অসম্ভব।