Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠে আস্তানা গেড়ে চুরি, গ্রেপ্তার বানজারা গ্যাংয়ের সদস্য

তারাপীঠে বানজারা গ্যাংয়ের সদস্য ওংকার বেদ গ্রেপ্তার। ৩০০ গ্রাম রুপোর গয়না উদ্ধার, পুলিশি তল্লাশি চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

তারাপীঠে আস্তানা গেড়ে চুরি, গ্রেপ্তার বানজারা গ্যাংয়ের সদস্য
  • ৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠকে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে ‘অপারেট’ করছিল আন্তঃরাজ্য অপরাধী চক্র ‘বানজারা গ্যাং’। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মল্লারপুরের একটি দুঃসাহসিক চুরির তদন্তে নেমে এই চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওংকার বেদ নামে গ্যাংয়ের এক সদস্যকে জেরা করে তারাপীঠের ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হল চুরি যাওয়া ৩০০ গ্রাম রুপোর গয়না।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ জুন মল্লারপুরের শিবগ্রামের বাসিন্দা রিম্পা দত্ত ষষ্ঠীপুজো উপলক্ষ্যে ঘরে তালা দিয়ে স্থানীয় একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, দরজার তালা ভাঙা। ঘরের ভেতর দু’টি আলমারির লকার ভেঙে সোনা ও রুপো মিলিয়ে মোট প্রায় সাড়ে চোদ্দ লক্ষ টাকার গয়না উধাও।
অভিযোগ পেয়ে মল্লারপুর থানার পুলিশ তদন্তে নামে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক যুবককে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। তবে প্রথম দিকে তার খোঁজ মিলছিল না। গত ১ জুলাই রাতে মল্লারপুর এলাকাতেই ওই যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখে ওত পেতে থাকা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম ওংকার বেদ, বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে।
ধৃতকে রামপুরহাট আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর তাকে ম্যারাথন জেরা করে তারাপীঠের গোপন আস্তানার সন্ধান মেলে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, তারাপীঠের মতো জনবহুল পর্যটন কেন্দ্রকে তারা নিজেদের আস্তানা বানিয়েছিল। ‘তারাপীঠে কাজ করি’, বাড়ির মালিককে এই পরিচয় দিয়ে, ভদ্রস্থ পোশাক পরে তারা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। সেখান থেকেই ওংকার ও তার দলবল তারাপীঠ সহ বিভিন্ন এলাকায় চুরির ছক কষত। রবিবার রাতে ওংকারকে সঙ্গে নিয়ে তারাপীঠের ওই ভাড়াবাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্যাংয়ের বাকি সদস্যরা পালিয়ে গেলেও, ঘর থেকে চুরি যাওয়া ৩০০ গ্রাম রুপোর গয়না উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বাকি গয়না উদ্ধার করতে এবং গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশি তল্লাশি জারি রয়েছে। সেই সঙ্গে ভদ্রবেশে থাকা এই বানজারা গ্যাং আর কোথায় কোথায় জাল বিছিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মল্লারপুর থানার পুলিশ।
রামপুরহাট মহকুমায় বানজারা গ্যাংয়ের সক্রিয়তা এই প্রথম নয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তারাপীঠের খামেড্ডা গ্রামে ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে বাড়িতে ঢুকে চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে শিশু কোলে এক বানজারা মহিলা। কয়েকমাস আগে রামপুরহাটের হস্তিকাঁদা গ্রামে মন্দিরে চুরির ঘটনাতেও জড়িয়েছিল এই বানজারা দলের সদস্যদের নাম এবং তারা গ্রেপ্তার হয়েছিল। এছাড়া বিশেষ বিশেষ তিথিতে ভক্ত সেজে তারাপীঠ মন্দিরে ভিড়ে মিশে হাতসাফাই করতে গিয়েও ধরা পড়েছে বানজারা দল। 
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বানজারা গ্যাংয়ের অপারেশনের একটি নির্দিষ্ট ও চতুর ধরন রয়েছে। এদের মহিলারা কখনও শিশু কোলে নিয়ে, আবার কখনও গর্ভবতী সেজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভিক্ষা করার অছিলায় রেইকি করে বা সুযোগ বুঝে চুরি করে। শিশু, কিশোর, কিশোরীদেরও হাত সাফাইয়ের কাজে লাগানো হয়, যাতে সহজে কেউ সন্দেহ না করে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ