সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ভুয়ো ভারতীয় নথিপত্র তৈরি করে এদেশেই ঘাঁটি গেড়েছিল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করল সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মোহাম্মদ রুবেল হক। পুলিশ জানিয়েছে, সে সামশেরগঞ্জের নতুন জালাদিপুরে বাস করলেও ধৃত ওই যুবকের আসল বাড়ি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায়। এই এলাকায় জায়গাজমি কিনে রীতিমতো চাষবাস শুরু করেছিল রুবেল। বৃহস্পতিবারই ধৃতকে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। যদিও ওই বাংলাদেশীর স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে এদেশেই থাকছে। সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ অফিসার জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জেরায় সে নিজেকে বাংলাদেশি বলে স্বীকার করে নেয়। ধৃতকে লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম মেনে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল রুবেল। তারপর থেকেই সে সামশেরগঞ্জ থানার নতুন জালাদিপুর এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে বাস করছিল। দীর্ঘদিন এদেশে থাকার সুবাদে সে জাল পরিচয়পত্র ও ভুয়ো সরকারি নথি জোগাড় করে ফেলে। তৈরি করে নেয় ভারতীয় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও পাসপোর্ট। সেসব জাল নথি দেখিয়েই সে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল। ভারতীয় এক মহিলাকে রুবেল বিয়েও করে। তাঁর দুই ছেলেমেয়েও রয়েছে। এলাকায় চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল রুবেল। এলাকায় জমি কিনে চাষবাস শুরু করেছিল। ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলেও সেটা ব্যবহার করেনি বলে জানা গিয়েছে। এমনকি, নিজের দেশেও তা জানায়নি।
সম্প্রতি বিষয়টি পুলিশের নজরে আসতেই গোপনে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারীরা। বেশ কিছু অকাট্য প্রমাণ হাতে আসার পর, বুধবার রাতে নতুন জালাদিপুর এলাকায় অতর্কিতে অভিযান চালায় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় রুবেলকে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়। কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন রুবেলের পরিবারের সদস্যরা।
ধৃতের থেকে বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে সে সীমান্ত টপকে এরাজ্যে ঢুকল, কারা তাকে এখানে আশ্রয় দিয়েছিল এবং এই ভুয়ো নথি তৈরির পিছনে কোনো বড়োসড়ো চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।