উৎসবের উল্লাসে মুছে যাক সাম্প্রদায়িকতার বিষ, চায় বাংলাদেশ
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তন্ময় সাহা: বর্ষার কাদাজল শুকিয়ে খুলনা, যশোরের গাঁ-প্রান্তর সেজে উঠেছে কাশফুলে। বরিশালের বিল ভরেছে পদ্মে। ঢাকার শিউলি ফুল তার সুবাসে নিয়ে এসেছে আগমনী বার্তা। ঘরের মেয়েকে বরণ করে নিতে গিরিরাজের মতোই আকুল আপামর বাঙালি। রাজধানী ঢাকা থেকে নোয়াখালি, ছোটো-বড়ো সবক’টি শিল্পালয়ে শ্বাস ফেলার ফুরসত নেই। রাত জেগে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শহরের বড়ো দোকান-বাজারগুলিতেও ভিড় বেড়েছে, চলছে পুজোর শপিং। সব মিলিয়ে এপাড়ের মতো পদ্মাপাড়ের দেশেও বেজে উঠেছে আগমনীর সুর। 

Advertisement

চলতি বছরেই দুর্গোৎসবে ধর্মীয় উৎসবে অনুদান বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে তারেক পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা চেয়েছিল। তাদেরও তিন কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটিও বেড়েছে বাংলাদেশে। এ বছরের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমীতে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে থাকবে সাধারণ ছুটি। পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ওই দিনও (২২ অক্টোবর) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। পাশাপাশি এবছর পুজোরও বাড়ছে, বাংলাদেশে এবার ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে পুজো উদযাপিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় দেড় হাজার বেশি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও জানিয়েছেন, পুজো মণ্ডপগুলোতে পুলিশের মনিটরিং থাকবে এবং পুজো চলাকালে সর্বক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। 
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আশা-আশঙ্কার দোলাচলে ছিল সেদেশের হিন্দু-ধর্মালম্বীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তারা দেখে তথাকথিত ‘মব কালচার’। গত ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সরকার পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে আতঙ্ক কাটছে না। গত কয়েকদিনে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির ও পুজো-মণ্ডপের উপর হামলার খবর এসেছে। ঢাকার বাসিন্দা মাহমুদ শরিফ রুমির কথায়, পাকিস্তানি আমলের কুচক্রী-স্বার্থান্বেষী মানুষরা এখনও অনেক জায়গাতেই রয়েছে। না হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির-মূর্তি ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলবে কেন? তবে বর্তমানে শারদীয় দুর্গোৎসব অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের অন্যতম অনুষঙ্গ। গত কয়েক বছরে যত বিভেদ-অসহিষ্ণুতা তৈরি হয়েছে তা সব ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাক এই শারদোৎসবে, চাইছে পদ্মপারের দেশ। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের নাগরিকরা বলছেন, যে অসাম্প্রয়াদিক বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধারা দেখতে চেয়েছিলেন, সেই স্বপ্নই পূর্ণতা পাক। পাশাপাশি ভারত ও সেদেশের মানুষের প্রতি যে ঘৃণা এপাড়ের কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ ছড়িয়ে দিচ্ছে, সেসবেরও অবসান হোক।