ঢাকা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এবার খুন হলেন ময়মনসিংহ জেলার স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। বুধবার জেলার বেগুনবাড়ি এলাকার একটি স্লুইস গেটের কাছে একটি নীল ড্রামের ভিতর থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁকে খুনের ঘটনায় শামীম মিয়া নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নিরঞ্জনচন্দ্র তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আঠেরোবাড়ি এলাকায় থাকতেন। সেখানে তাঁর একটি সোনার দোকান রয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর বুধবার তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। নিরঞ্জনের মাথায় ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খুনের পর তাঁর দেহ ড্রামে ভরতি করে জলে ফেলে দেয় অভিযুক্ত। পুলিশ জানতে পেরেছে, নিরঞ্জনের একটি অটোরিকশ রাখার গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে কাজ করত অভিযুক্ত শামীম। সে ভাড়াবাড়িতে থাকত। সম্প্রতি এক মহিলার সঙ্গে শামীমকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন এবং গোপনে ভিডিয়ো করে রাখেন নিরঞ্জন। পরে সেই ভিডিয়ো ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শামীমের থেকে নিরঞ্জন নিয়মিত টাকা নিত। গত ২১ সেপ্টেম্বর এনিয়ে দু’জনের মধ্যে ব্যাপক বচসা বাধে। সেই সময় নিরঞ্জনকে বঁটি ও শিলনোড়া দিয়ে আঘাত করে শামীম। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নিরঞ্জনের। এরপর দেহ ড্রামে ভরতি করে স্লুইস গেটের কাছে ফেলে দেওয়া হয়। ধৃত শামীমকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। খুনের পিছনে অন্য কারণ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।