Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বনগাঁ উত্তর: গেরুয়া শিবিরের ‘শক্ত ঘাঁটি’ দখলে পাড়ায় পাড়ায় ‘চাটাই বৈঠক’ তৃণমূল কংগ্রেসের

ভোটের লড়াইয়ে ক্রমশ তেতে উঠছে বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। অনেকে মনে করেন, বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপির ‘অজেয় ঘাঁটি’।

বনগাঁ উত্তর: গেরুয়া শিবিরের ‘শক্ত ঘাঁটি’ দখলে পাড়ায় পাড়ায় ‘চাটাই বৈঠক’ তৃণমূল কংগ্রেসের
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোটের লড়াইয়ে ক্রমশ তেতে উঠছে বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। অনেকে মনে করেন, বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপির ‘অজেয় ঘাঁটি’। এবার সেই ঘাঁটির ‘দখল’ নিতে একেবারে কোমর বেঁধে নেমেছে জোড়াফুল শিবির। এই লড়াইয়ে তৃণমূলের মূল হাতিয়ার ‘চাটাই বৈঠক’। এমন প্রচার কর্মসূচিতে ইতিমধ্যে সাফল্য আসতে শুরু করেছে বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপির অবশ্য দাবি, গোটা বনগাঁই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। মানুষের মন থেকে কোনোভাবে বিজেপিকে সরানো যাবে না।

Advertisement

বনগাঁ উত্তরে এবার তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর প্রচারে বড়ো সভা বা সুবিশাল মিছিল তো হচ্ছেই। সেই সঙ্গে বিজেপির ‘শক্ত ঘাঁটি’গুলিতে চলছে ছোটো ছোটো ‘চাটাই বৈঠক’। এর মাধ্যমে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে তাঁদের দাবিদাওয়া, চাহিদার কথা জেনে নেওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি নিছক প্রচারের ধরন বদল নয়, বরং সুপরিকল্পিত ‘মাইক্রো স্ট্র্যাটেজি’। তৃণমূলের অন্দরে খবর, এই বৈঠকগুলিকে ‘এফেক্ট জোন’ হিসাবে চিহ্নিত এলাকায় করা হচ্ছে। যেখানে বিজেপির ভোটব্যাংক শক্তিশালী, কিন্তু মানুষের মধ্যে নানা অভাব-অভিযোগ ও অসন্তোষ জমে রয়েছে—সেই সব এলাকা ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। সেখানে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, বঞ্চনা, পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি শোনা হচ্ছে। শুধু শোনাই নয়, দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে। মূলত, বনগাঁ শহরের ক্ষেত্রে এই কৌশল বেশি করে নিচ্ছে শাসক দল। শুধু প্রার্থী নন, দলের কাউন্সিলার থেকে অন্যান্য নেতা বৈঠক করছেন। বড়ো কর্মসূচিতে যে দূরত্ব তৈরি হয়, এই ধরনের ছোটো বৈঠকে তা মুছে যাচ্ছে। ফলে ভোটারদের একাংশের মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার হচ্ছে বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের কথায়, ‘মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট চলছে। এর ফলে জনসংযোগ হচ্ছে দ্রুত ও কার্যকরী। শহরে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিজেপি যতই লম্ফঝম্ফ করুক, ৪ মে ওরা চোখে সরষে ফুল দেখবে।’ পালটা বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘বনগাঁ উত্তর এখনও আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ২০২১ সালের জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও আমরা জিতব। ৫০ হাজার ভোটে বিশ্বজিৎ দাসকে হারাব।’ 
প্রসঙ্গত, বনগাঁ মহকুমায় বিশেষ ফ্যাক্টর মতুয়া ভোট। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বনগাঁ উত্তর বিধানসভায় ১০ হাজার ৪৮৮ ভোটে জেতেন বিজেপির অশোক কীর্তনিয়া। এবার ফের তাঁকেই টিকিট দিয়েছে দল। কিন্তু এই বিধানসভায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গিয়েছে, যার সিংহভাগ মতুয়া। ফলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এবার কিছুটা হলেও চাপে পদ্মশিবির। এদিকে, ইতিমধ্যে বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। হলফনামায় তাঁর স্থাবর সম্পত্তি ২ কোটি ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৮৯ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ১৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৪৪ টাকা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ