সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ১৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক প্যাকেজ পেলে তাঁরা ১০ মিনিটের মধ্যেই জয়ন্তী ছেড়ে চলে যাবেন। চলে যাবেন প্রশাসনের চিহ্নিত পুনর্বাসনের জায়গা বিজয়গড়ে। শুক্রবার জয়ন্তী নদীতে নেমে বনমন্ত্রী, বনদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কাতর আবেদন নিয়ে একথা জানিয়ে দিল বক্সার কোর এলাকায় থাকা জয়ন্তী বনবস্তির বাসিন্দারা। জয়ন্তী বনবস্তির ৬৪৪ জন বাসিন্দা পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যেই বনদপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এদিন বনবস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য লালন মাহাত ও জয়ন্তী গ্রামসভার সম্পাদক আশিস দে।
লালন বলেন, ইতিমধ্যেই গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বনবস্তির ২৪৪টি পরিবার সরকারি আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে বনছায়া গ্রামে পুনর্বাসন নিয়েছে। আমরাও দ্রুত এখান থেকে সরকার চিহ্নিত পুনর্বাসনের জায়গায় চলে যেতে চাইছি। সরকার ১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক প্যাকেজ দিলে আমরা ১০ মিনিটে জয়ন্তী ছেড়ে চলে যাবে। জয়ন্তী বনবস্তি গ্রামসভার সম্পাদক আশিস দে বলেন, আমরা জয়ন্তীতে সারা বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় থাকি। জয়ন্তীতে থেকে আমাদের কোনো আর্থিক আয়ও হচ্ছে না। বছরের আট মাস মাত্র সামান্য আয় হয় আমাদের। বছরের তিন মাসই জঙ্গল বন্ধ থাকে। বর্ষার সময় আরও খারাপ অবস্থা হয় আমাদের। জঙ্গল গাইড, ছোট ছোট দোকানদারদের খারাপ অবস্থা। বনছায়ার মতো বিজয়গড়ে পানীয় জল, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও স্কুলের মতো পরিকাঠামো পেলে আমরা চলে যাব।
এদিকে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়ন্তী বনবস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যেই ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যেই জয়ন্তীর বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের আবেদনপত্র কলকাতা পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। স্টেট লেভেল মনিটরিং কমিটির বৈঠকের পরেই জেলা প্রশাসনের তরফে শিবির করে জয়ন্তী বনবস্তির বাসিন্দাদের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার কাজ শুরু হবে। বিজয়গড়ে তার জন্য পরিকাঠামো তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ বলেন, জয়ন্তী বনবস্তির মানুষের পুনর্বাসনে যাতে কোনোরকম অসুবিধা না হয় তা দেখা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র