


সংবাদদাতা, বনগাঁ: ভারত সরকারের জারি করা নয়া নীতিতে বাণিজ্যে ধস নেমেছে পেট্রাপোল বন্দরে। এই মন্দার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এদেশের ব্যবসায়ীদের উপর। প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু শ্রমিক। বিকল্প পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই। বর্তমানে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে তৈরি পোশাক ও পাট এবং পাটজাত পণ্যের একাংশের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই সকল পণ্যের উপর অনেকটাই নির্ভর করত দেশের রাজস্ব আদায়। আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে শুধুমাত্র পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে রেডিমেড পোশাক আমদানিতে রাজস্ব আদায় হয়েছিল প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা। এই পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে গত মে মাসে। ফলে চলতি অর্থবর্ষে গত জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ২১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। পেট্রাপোল সীমান্তসহ দেশের প্রতিটি সীমান্ত বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্যের একাংশ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি দেশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটা বড় ধাক্কা। মনে করছে ব্যবসায়িক মহল। গতবছর শুধুমাত্র জুন মাসে প্রায় ৫৪১ কোটি টাকার পাট ও পাটজাত বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছিল পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে। নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় এবছর জুন মাসে পণ্য আমদানি হয়েছে মাত্র ৩১৬ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকার।
পেট্রাপোল শুল্কদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাট ও পাটজাত পণ্যের একটা বড় অংশ এই বন্দর দিয়ে আমদানি হতো। সেই পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই রাজস্ব আদায় অনেকটাই কমেছে। গতবছর আগস্ট মাসে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। তার প্রভাব পড়েছে সীমান্ত বাণিজ্যে। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা। অনেকেই কাজ হারিয়েছেন।’ বন্দরে যাত্রী চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে।