Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রায়গঞ্জ থেকে প্রাচীন পুঁথি আবিষ্কার বালুরঘাট কলেজের অধ্যাপকের, আগ্রহ গবেষকমহলে

বালুরঘাট কলেজের অধ্যাপক ড. সমিত কুমার সাহা আবিষ্কার করেছেন ১৮৫৭ সালের প্রাচীন পুঁথি, যা বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধারণ করে। বিস্তারিত পড়ুন।

রায়গঞ্জ থেকে প্রাচীন পুঁথি আবিষ্কার বালুরঘাট কলেজের অধ্যাপকের, আগ্রহ গবেষকমহলে
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হিলি: ধুলোমাখা পুঁথিতে লুকিয়ে থাকা উনিশ শতকের বাংলার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি এবং ভক্তিধারার সন্ধান মিলল। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে তুলোট কাগজে লেখা ‘শ্রীশ্রী কৃষ্ণসহস্রনামস্তোত্র’ পুঁথিটি ঘিরে গবেষক মহলে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিরল এই পুঁথিটি সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি গ্রাম থেকে আবিষ্কার করেছেন বালুরঘাট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সমিত কুমার সাহা। মূল পুঁথিটির রচয়িতা শ্রীগোপীনাথ শর্মা। আবিষ্কৃত এই পুঁথি গবেষণা করে পরবর্তীতে সমিত শ্রীশ্রীকৃষ্ণসহস্রনামস্তোত্র নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন। সমিতবাবু তিন দশক ধরে বাংলার গ্রামাঞ্চলে ক্ষেত্রসমীক্ষা ভিত্তিক লোকঐতিহ্যের উপাদান সংগ্রহ করছেন। সেই সূত্রে সম্প্রতি রায়গঞ্জ থানার বন্দর সাহাপাড়ার বাসিন্দা গোপাল চক্রবর্তীর বাড়িতে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা এই মূল্যবান পুঁথিটি খুঁজে পান। তুলোট কাগজে লেখা উদ্ধার হওয়া পুঁথিটি সম্পাদনা করে বই হিসেবে প্রকাশ করেছেন। 

Advertisement

পুঁথিটিতে শ্রীকৃষ্ণের সহস্রনাম, জন্মলীলা, জন্মাষ্টমী ব্রতের বিধান, গৃহপ্রবেশ, মন্দির প্রতিষ্ঠার নিয়ম, পুজোর বিভিন্ন আচার, মন্ত্র এবং ভাগবত গীতার শ্লোক উদ্ধৃত করা হয়েছে। পুঁথির শেষে গীতার শ্লোক উদ্ধৃত করে রচনার সমাপ্তি ঘটেছে। একই সঙ্গে পুঁথির মধ্যে স্বতন্ত্র হস্তাক্ষরের প্রায় পঁচিশ পৃষ্ঠার ‘ততো নবগ্রহ হোম’ নামে একটি খণ্ডিত পুঁথি লক্ষ্য করা গিয়েছে। খণ্ডিত পুঁথিটিতে গণেশ বন্দনা দিয়ে শুরু করে বিভিন্ন গ্রহের বন্দনা করা হয়েছে। 
গবেষণায়, পুঁথিটির রচনাকাল হিসাবে উল্লেখিত সন তারিখের ভিত্তিতে ইংরেজি ১৮৫৭ সালের এই প্রেক্ষাপটে ভারতবর্ষজুড়ে তখন সিপাহী বিদ্রোহের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। ড. সাহার মতে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে মানুষের মনে সাহস, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে শ্রীকৃষ্ণকে শক্তির প্রতীক এবং পরম আশ্রয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ড. সাহার মতে, পুঁথিটির গুরুত্ব কেবল ধর্মীয় সাহিত্য হিসেবে নয়, তৎকালীন দিনাজপুরের সামাজিক কাঠামো, গ্রামীণ অর্থনীতি, লোকাচার, পুজোর উপকরণ এবং তুলোট কাগজ নির্মাণশিল্প সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে এটি ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ