শশীকলা সিনহা। ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্সের নেপথ্যে রয়েছেন এই প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানী। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের কাহিনী। রয়েছে একাকিত্ব। রয়েছে দুই সন্তানের মায়ের হার না মানা সংগ্রাম। তামিলনাড়ুর মাদুরাইতে জন্ম শশীকলার। ভারতীয় সেনার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পোস্টে ছিলেন বাবা। চাকরি সূত্রে বাবাকে দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে শশীকলার ছোটবেলাও কেটেছে দেশের নানা শহরে। সেই সূত্রে স্কুলজীবন কেটেছে হায়দরাবাদে। স্কুলের পর প্রথমে সেন্ট ফ্রান্সিস কলেজ, পরে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং। পড়া শেষে যোগ দেন ডিআরডিও-তে। কিন্তু বছরখানেকের মধ্যেই সেই চাকরি ছেড়ে দেন। আইআইটি খড়্গপুরে স্নাতকোত্তরের পর সোসাইটি অফ মাইক্রোওয়েভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কাজ শুরু করেন। বিয়ে হয় শশীকলার। স্বামী নৌসেনা আধিকারিক। জীবনের প্রথম সন্তান ঘরে আসার আগে চাকরি ছেড়ে দেন শশী। ১৯৮৯ সালে মেয়ে পবিত্রা জন্ম নেয়। কয়েক বছর পর দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সময় এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় স্বামীর। দুই মেয়েকে নিয়ে শশীকলা তখন একদম একা। মেয়েদের বড় করে তোলা, সংসারের দেখভাল—লড়াই থামেনি শশীকলার। ১৯৯৭ সাল। ডিআরডিও-র রিসার্চ সেন্টার ইমারতে কন্ট্রাক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ফের কাজ শুরু করেন। ২০০১ সালে ফুল টাইম সায়েন্টিস্ট পদে প্রমোশন হয়। ফ্লাইট ভেহিকেলস, আরএফ সিকারস, ব়্যাডমস, ব়্যাডার টেকনোলজি, মিসাইল সিস্টেম, গাইডেড ওয়েপন সহ নানা বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। তখন ব্যালিস্টিক মিসাইলের জন্য অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল ভারত। আর ডিআরডিও-এর ল্যাবে একজন জেদি মহিলা ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে গবেষণা করতে ব্যস্ত। প্রায় এক দশক পর ২০১২ সালে মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের ডিরেক্টর হন তিনি। ২০১৬ সালে পাঁচটি এস ৪০০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট মিসাইল সিস্টেম সরবরাহের জন্য ব্রিকসে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর হয়। পরের বছর দেশের নানা জায়গায় মিসাইল টেস্ট শুরু হয়। বাকিটা ইতিহাস। আজ ভারতের নিজস্ব ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম রয়েছে। আর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর শশীকলা সিনহা।



