নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কখনও ভিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কখনও রাজ্যপাল, কখনও আবার প্রভাবশালী মন্ত্রী বা শীর্ষ আমলা— এইসব পরিচয় ভাঁড়িয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের ফোন করে ভুলভাল নির্দেশ দেওয়ার বাতিক ছিল বহু বছরের। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার এমনই একটি অভিযোগে পুলিশ হাওড়ার বালির এক যুবককে আটক করেছে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এক দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে সন্দেহজনক ফোন যাওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। দপ্তর থেকে পুলিশকে জানানো হলে ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্তে নেমে বালির রামনবমীতলা থেকে ২৬ বছরের অভিজিৎ মণ্ডলকে আটক করে পুলিশ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, বেকার অভিজিৎ মাঝেমধ্যে বাবার আনাজের দোকানে সাহায্য করলেও সুযোগ পেলেই মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে নিজেকে কখনও অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কখনও রাজ্যপাল, কখনও বা মন্ত্রী বা আমলা হিসাবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ফোন করতেন। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্য রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের কাছেও একই কায়দায় ফোন করে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ভিন রাজ্যের এক মুখ্যমন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে এরাজ্যের এক মন্ত্রীর দপ্তরে ফোন করে নিজেরই নাম করে সহযোগিতার অনুরোধ করেন তিনি। এরপর বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের নাম ভাঁড়িয়ে রাজ্যের আরেক দপ্তরের মন্ত্রীর কাছেও একই ধরনের ফোন করা হয়। কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। ফোন নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ বালির রামনবমীতলায় পৌঁছে অভিজিৎকে আটক করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যুবকের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো আর্থিক প্রতারণার প্রমাণ মেলেনি। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় দিয়ে ফোন করে নির্দেশ দেওয়ার মধ্যেই এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি খুঁজে পেতেন ওই যুবক। এর আগে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও ফোন করে এই যুবক বিরক্ত করেছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। যদিও পরিবারের দাবি, অভিজিতের মানসিক সমস্যা রয়েছে এবং প্রায় ১৩ বছর বয়স থেকে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা বৃহত্তর চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ জানতে পেরেছে, একাধিক জেলায়, বিশেষ করে সাইবার ক্রাইম থানাগুলিতে একই ধরনের কাণ্ডের অভিযোগ আগেই রয়েছে অভিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। অভিজিৎ মণ্ডল। নিজস্ব চিত্র