কুন্তুল পাল, বনগাঁ: সাদা কাগজ পড়ে থাকতে দেখলেই ছবি আঁকতে বসে যেতেন। আর একটা শখ বলতে ফুটবল। মেসি বলতে অজ্ঞান। বাড়ির লোক ঘোরতর আপত্তি তুলেছিল বলে পড়াশোনায় খামতি দিয়ে ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবে ছবি আঁকা ছাড়েননি। এখন ফুটবলের নায়ক আর ছবিকে মিলিয়ে দিয়েছে তাঁর শিল্পকাজ।
স্বপ্নের খেলোয়াড়কে একবার অন্তত কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা। এখনও সে ইচ্ছাপূরণ হয়নি। তবে ভালবাসার মানুষের জন্য বহু পরিশ্রমে তৈরি করেছেন উপহার। মহিলাদের কপালের টিপ দিয়ে এঁকেছেন মেসির ছবি। একেবারে তাক লাগানো কাজ। বাগদার বাসিন্দা সুজিত হাওলাদার নিজের স্বপ্নের খেলোয়াড়ের হাতে সে উপহার তুলে দিতে চান। এখন সে অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন। বলেন, ‘শুনেছি ডিসেম্বরে কলকাতা আসবেন মেসি। সুযোগ হলে তখন তাঁর হাতে ছবিটি তুলে দেব।’
বাগদার পার কৃষ্ণচন্দ্রপুরের বাসিন্দা সুজিত হাওলাদার। তাঁর আঁকা ছবিতে ফুটে ওঠে নানা ধরনের গল্প। মনে করেন, ছবিতে গল্প না থাকলে তা পূর্ণতা পায় না। নতুন কিছু করার ইচ্ছা সর্বদা। এবার কপালের টিপ দিয়ে প্রিয় ফুটবলারের ছবি ফুটিয়েছেন। আন্তর্জাতিকস্তরে লিওনেল মেসির ৮৬৬টি গোলকে সম্মান জানাতে ৮৬৬ টি টিপই ব্যবহার করে এঁকেছেন ছবি। প্রায় দেড় মাসের চেষ্টায় কাজ শেষ হয়। তারপর জানতে পারেন মেসির ঝুলিতে আরও দু’টি গোল বেড়েছে। শুনেই দু’টি টিপ দিয়েছেন বাড়িয়ে। ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ভক্ত সুজিত। তাঁর আঁকা ছবিতে জীবন খুঁজে পান। ছবি আঁকার পাশাপাশি ফুটবল খুব টানে। তবে লেখাপড়ার ক্ষতি আটকাতে ছেলের খেলাধুলোয় লাগাম টেনেছিলেন মা-বাবা। তাও তাঁদের ফাঁকি দিয়ে টিউশন যাওয়ার নাম করে লুকিয়ে বইখাতার বদলে ফুটবলের বুট নিয়ে বাড়ি থেকে বেরতেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে খেলতেন। সে খেলা একদিন ছেড়ে দেন। তবে ছবি আঁকা ছাড়েননি। বলেন, ‘ছবি আঁকার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাই। নতুন সৃষ্টি সে আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।’ ছবি আঁকার দৌলতে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের থেকে স্মারক পুরস্কার পেয়েছেন। বিছানার এক পাশে সেগুলি সাজিয়ে রাখা। সেগুলি দেখতে দেখতে এখনও স্বপ্ন দেখে চলেন সুজিত। স্বপ্ন, একদিন ভ্যান গঘের মতো তাঁর আঁকা ছবিও দেখবে গোটা বিশ্বের মানুষ। নিজস্ব চিত্র