Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যাকডেটে অনুমোদন! বিল্ডিং প্ল্যান নিয়েও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত দেবরাজ

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। শুধু তোলাবাজি নয়।

ব্যাকডেটে অনুমোদন! বিল্ডিং প্ল্যান  নিয়েও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত দেবরাজ
  • ৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। শুধু তোলাবাজি নয়। পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান পাসেও প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে বলে দুদিন আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। এবার বিল্ডিং প্ল্যান দুর্নীতি ইস্যু তুলেই দেবরাজের পাশাপাশি রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধায়ক তরুণজ্যোতি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর নিয়ে ৯টি ধারায় মামলা রুজু করেছে।

Advertisement

তোলাবাজির অভিযোগে ১ জুলাই পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেবরাজকে। এর আগে তাঁর ঘনিষ্ট চার প্রাক্তন কাউন্সিলারকেও বাগুইআটি থানা গ্রেপ্তার করে। দেবরাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ‘টিএমসি প্ল্যানে’র অভিযোগ তোলেন তরুণজ্যোতি। তাঁর অভিযোগ, পুরসভায় পৃথক দুটি প্ল্যান চালু ছিল। একটি বিধাননগর পুরসভার ‘বিএমসি প্ল্যান’, অপরটি দেবরাজ চক্রবর্তীর ‘টিএমসি প্ল্যান’! তাতেই নাকি কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।
দেবরাজের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ কী? তরুণজ্যোতি সাংবাদিকদের বলেন, তৃণমূল নেতারা দুর্নীতি করেন। আর সাধারণ মানুষ তার মাশুল দেন। এইরকমই একটি উদাহরণ পেয়েছি কৈখালির সর্দারপাড়ায় একটি বহুতলে। ওই বহুতল ভাঙার অর্ডার হয়েছে। অথচ, তারা নিয়মিত ট্যাক্স দেয়। প্ল্যানও আছে। তাহলে বেআইনি হল কী করে? খোঁজ নিয়ে জানলাম, ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি এই বহুতলের প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। ছ-মাসের মধ্যে সিসি-ও দেওয়া হয়! অথচ, ২০১৮ সালে (২০১৫ সালে বিধাননগর কর্পোরেশন তৈরি হয়েছে) ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট হয়! এটাই টিএমসি প্ল্যান। ব্যাক ডেটে প্ল্যান অনুমোদন করেন তাপস।
তরুণজ্যোতি বলেন, মিউটেশন কমিটিতে দেবরাজ ছিলেন। তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে এবং পুর আধিকারিকদের একাংশকে ব্যবহার করে বেআইনি প্ল্যানগুলির মিউটেশনও করিয়ে নেন। এই দুই নেতা ছাড়াও, একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, এক ইনভেস্টর এবং ব্যাংকের কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছি। কারণ, ব্যাংকের আধিকারিক ও কর্মীরাও এই দুর্নীতিতে জড়িত। তাঁরা কাগজপত্র খতিয়ে দেখে ঋণ দেন। সাধারণ মানুষ এখন বিপাকে পড়েছেন। শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, রাজারহাট-গোপালপুরে এরকম ঘটনা ঘটেছে অনেক!
এই ব্যাপারে তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি শুনেছি একটি অভিযোগ হয়েছে। তবে, এফআইআর হাতে পাইনি। সেটি না দেখে কোনো মন্তব্য করব না। বিষয়টি আমার আ‌ইনজীবী দেখছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ