Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বাড়ি কেনাই শখ

বাড়ি কেনাই শখ
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বাড়ি কেনাই ছিল তাঁর একমাত্র শখ। ইউরোপের প্রায় প্রতিটি শহরেই বাড়ি কিনেছিলেন তিনি। তবে একটি বাড়িতে বেশিদিন থাকেননি। বেশ খামখেয়ালি মানুষ ছিলেন। তা হলেও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে তাঁরই নামে। তিনি আর কেউ নন সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড বার্নাড নোবেল। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে ১৮৯৬ সালের নভেম্বরের শেষদিকে তিনি প্যারিসে আসেন। সেখানে একটি ক্লাবে সুইডেনের মানুষের আনাগোনা ছিল। ওই বছর ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যাবেলায় কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গেলেন সেই ক্লাবে। নেহাত আড্ডা মেরে সময় কাটানো নয়, তিনি সেখানে গিয়েছিলেন একটি বিশেষ কাজে। চারজন বন্ধুকে সাক্ষী রেখে লিখলেন একটি উইল। আর এই উইলটিই সারা বিশ্বের কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে রইল। কী ছিল সেই উইলে? তিনি লিখলেন তাঁর আবিষ্কৃত ডিনামাইট বিক্রি এবং রয়্যালটি থেকে অর্জিত সাড়ে তিন কোটি সুইডিশ ক্রোনার একটি ব্যাঙ্কে আমানত হিসাবে জমা থাকবে। এর থেকে প্রাপ্ত সুদের অর্থে প্রতি বছর মানবকল্যাণে যে সব ব্যক্তি বা সংগঠন গবেষণা বা উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে। পাঁচটি বিষয়ে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। বিষয়গুলি হল পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য রচনা ও শান্তি স্থাপন। গোটা বিশ্বের যেকোনও ব্যক্তি বা সংগঠন এই পুরস্কার পেতে পারেন। তবে এই পুরস্কার সর্বাধিক তিনজনকে একই বিষয়ে যৌথভাবে দেওয়া যাবে। এটিই নোবেল পুরস্কার নামে খ্যাত হয়ে ওঠে। উইলটি তৈরির মাত্র ১৩ দিন পরেই ১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর ইতালির সান রেমোতে মারা যান নোবেল। সেই সময় তিনি বিশাল সম্পত্তির মালিক ছিলেন। ইউরোপের প্রতিটি বড় শহরে বাড়ি তো ছিলই, এর পাশাপাশি ৫৩টি তৈলবাহী জাহাজ, ১৫টি কারখানা এবং নিজের আবিষ্কৃত ৩৫৬টি জিনিসের পেটেন্ট ছিল তাঁর। জীবিত অবস্থায় আত্মীয়রা তাঁকে বিশেষ পাত্তা দিতেন না। কিন্তু এই অগাধ সম্পত্তির দখলদারি নিতে তাঁরা একজোট হয়ে উইলটি বাতিলের মামলা করে। পাঁচ বছর ধরে মামলা চলার পর ১৯০১ সালে আদালত নোবেলের পরিবারের আবেদন অগ্রাহ্য  করে। সেই বছর থেকেই নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ