নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে কয়েক মাস আগে অটো এলপিজির দাম লাগাতার বাড়ছিল। বাড়তে বাড়তে সেই দাম একটা সময় ৯০ টাকা ছুঁইছুঁই হয়ে যায়। শহরের বহু অটোরুটে ভাড়া বৃদ্ধি হয়। কিন্তু আগস্ট মাসের শুরুতেই অটো এলপিজির দাম এক ধাক্কায় নেমে এসেছে ৬৬ টাকা ৭৫ পয়সায়। তাহলে কি এবার ভাড়া কমাবে অটো ইউনিয়নগুলি? প্রশ্ন তুলছে যাত্রী মহল।
কয়েক মাস আগে যখন অটো এলপিজির দাম ৫৫ টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করত, তখন পর্যন্ত অটো ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি। পরবর্তীকালে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে সেই দাম দফায় দফায় বেড়ে এক সময় ৯০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফের তা কিছুটা কমে ৮৮ টাকা হয়। গত কয়েক মাস ধরে আশির ঘরেই অটো এলপিজির দাম ওঠানামা করছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসের ১ তারিখে অটো এলপিজির দাম নির্ধারিত হয়। আগস্টের শুরুতেই সেই দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৭৫ পয়সায়। এই অবস্থায় ফের ভাড়া কমানোর দাবি উঠছে। টালিগঞ্জ-রানিকুঠি, টালিগঞ্জ-বেহালার একাধিক রুট, উল্টোডাঙা থেকে শোভাবাজার কিংবা আহিরীটোলা কিংবা জোড়াবাগান রুটসহ উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার একাধিক অটো রুটে ভাড়া ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। যদিও কোনো কোনো অটো ইউনিয়ন আবার ভাড়া বাড়ানোর পথে হাঁটেনি। যেমন উল্টোডাঙা-বাগুইআটি রুটে ভাড়া বাড়েনি। আবার, প্রিন্স আনোয়ার শাহ-যাদবপুর রুটেও ভাড়াবৃদ্ধি হয়নি। এসব রুটে চালকরা ভাড়া না বাড়িয়ে মালিককে দৈনিক প্রদেয় টাকা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বেশিরভাগ রুটেই ভাড়া বৃদ্ধি হয়। সেসব রুটে এখন ভাড়া কমানোর দাবি তুলছেন যাত্রীরা।
নিয়মিত উল্টোডাঙা-আহিরীটোলা লঞ্চঘাট রুটে যাতায়াত করেন সুলগ্না চক্রবর্তী। তিনি বলছিলেন, ‘১৮ টাকা থেকে ভাড়া বাড়তে বাড়তে ২৫ টাকা হয়েছে। জ্বালানির দাম যখন এতটা কমল, এবার ভাড়াও কিছুটা কমানো উচিত।’ উল্টোডাঙা-বাগুইআটি রুটের অটোচালক সোমনাথ দত্তের কথায়, ‘আমাদের রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। আমরা নিজেরা কম্প্রোমাইজ করেছি।’ ই এম বাইপাসের সিংহবাড়ি থেকে সোনারপুর-রাজপুরের গোপালনগর রুটের অটোচালক গোপাল সুতার বলেন, ‘বেশিরভাগ অটো রুটেই কিন্তু ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তবে যেভাবে জিনিসের দাম বাড়ছে, তাতে কোনো কোনো রুটে যদি ভাড়া বাড়িয়েও থাকে, তাঁরা কী আর ভাড়া কমাবে!’ যাত্রীদের বক্তব্য, জ্বালানির দামবৃদ্ধির কথা বলে যদি ভাড়া বাড়ানো হয়, তাহলে এক ধাক্কায় এলপিজির দাম এতটা কমে গেলে ভাড়া অবশ্যই কমানো উচিত। পুজোর সময় তো আবার ভাড়া বাড়ানো হবে!