৩ নভেম্বর থেকে সেশন শুরু  আতান্তরে কর্তৃপক্ষ, পূর্ব মেদিনীপুরে ২১ বিএড কলেজ ছাত্রছাত্রী ভরতির ছাড়পত্র পায়নি
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগামী ৩নভেম্বর থেকে বিএড-এর ২০২৬-’২৮সেশনের ক্লাস শুরু হবে। কিন্তু, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৩২টির মধ্যে ২১টি সেল্ফ-ফিনান্সড বিএড কলেজ এখনও ছাত্র ভর্তি করার অনুমোদন পায়নি। দেড়মাস আগে জেলার মাত্র ১১টি বিএড কলেজ চলতি সেশনে ভর্তির অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু, নানা কারণে বাকি ২১টি কলেজে সেই অনুমোদন আটকে রয়েছে। সেশন শুরু হতে মাত্র চারদিন বাকি থাকলেও কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। ফলে ওই সমস্ত কলেজের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা চিন্তিত।

Advertisement

ভগবানপুর-২ ব্লকের নাজিরবাজারের একটি বিএড কলেজের মালিক তপন বেরা বলেন, প্রথম দফায় পরিদর্শনের পর শো-কজ করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে প্রতিটি কলেজ পরিকাঠামো সহ অন্য ত্রুটি শুধরে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেয়। তার ভিত্তিতে ফের পরিদর্শন হয়। তারপর আর কোনো নির্দেশ আসেনি। আমরা এনিয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২৮আগস্ট এনসিটিই’র গাইডলাইন না মানার অভিযোগে ২৯টি কলেজকে শো-কজ করেছিলেন বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার। তিন সপ্তাহের মধ্যে শো-কজের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিছু কলেজ তাড়াতাড়ি ঘাটতি মেরামত করে শো-কজের জবাব দেয়। এরপর ১৫সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে ১৪৫টি বিএড কলেজে পড়ুয়া ভরতির অনুমোদন দেওয়া হয়। তার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ১১টি কলেজ অনুমোদন পেয়ে ভরতি প্রক্রিয়া শুরু করে। বাকি ২১টি কলেজ অনুমোদন না পেলেও ৫-১০হাজার টাকা নিয়ে ‘সিট বুকিং’ করেছিল। ছাড়পত্র পেলেই ভরতি প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু সেশন শুরুর মুখেও অনুমোদন ঝুলে থাকায় সেগুলির কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন। জেলার পাঁশকুড়ার পশ্চিম নেকড়া, বৃন্দাবনচক, ধামাইত ও দক্ষিণ মেচগ্রামে চারটি সেল্ফ-ফিনান্সড বিএড কলেজ পড়ুয়া ভরতির অনুমোদন পেয়েছে। ময়না থানার গোপালচক, খেজুরির জরারনগরে দু’টি কলেজ, সুতাহাটার চৈতন্যপুর, রামনগরের দেপাল, ভূপতিনগর থানার বাজকুল এবং কাঁথির ফরিদপুরের কলেজগুলিও ছাড়পত্র পেয়েছে। বাকি ২১ট কলেজ নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তবে ২০নভেম্বর অবধি পড়ুয়া ভরতি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তার আগেই অবশ্য ওই সমস্ত কলেজ মালিকরা আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে চলেছেন।
আগামী বছর এপ্রিল মাসের মধ্যে এরাজ্যে ৩৩হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। তৃণমূল জমানায় ২০১৬সালের পর থেকে প্রায় ১০বছর শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এর জেরে বিএড কোর্স নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে অনীহা দেখা দেয়। বিজেপি ক্ষমতায় এসে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ফের বিএড নিয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। কিন্তু, নানাবিধ কারণে জেলার ২১টি কলেজে ভরতির অনুমোদন আটকে থাকায় মালিকপক্ষ আতান্তরে পড়েছে।