


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একাকী বৃদ্ধাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা ও লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নেতাজিনগর থানা এলাকার পল্লিশ্রীতে। অভিযুক্ত এক ফল বিক্রেতা। গাছে জল দেওয়া ও বাড়ির কাজে সাহায্য করার নাম করে সে এই বাড়িতে ঢুকেছিল বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির পরিচারিকা কাজে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। কৃষ্ণা চৌধুরী নামের ওই বৃদ্ধা এখন হাসপাতালে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত সুকুমার বৈদ্য সোমবার রাতে বারুইপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটাত্তর বছর বয়সি কৃষ্ণা চৌধুরী ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। কৃষ্ণাদেবীর স্বামী অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাঁরা থাকেন কলকাতা লাগোয়া জেলায়। স্থানীয় এক পরিচারিকা বাড়ির কাজের পাশাপাশি বৃদ্ধাকে দেখভাল করেন। কৃষ্ণাদেবী এক ফলওয়ালার কাছ থেকে প্রতিদিন ফল কিনতেন। মাঝেমধ্যে ওই ফলওয়ালা তাঁর ঘরে এসেই ফল দিয়ে যেত। তখন দেখেছিল, বৃদ্ধার হাতে ও গলায় সোনার গয়না রয়েছে। তা দেখেই বৃদ্ধাকে খুন করে লুটের ফন্দি আঁটে ওই ফলওয়ালা।
পুলিশ জেনেছে, ১৩ মার্চ সকালে ফল বিক্রেতা সুকুমার বৈদ্য নিজেই ওই বাড়িতে আসে। দেখে, বৃদ্ধা গাছে জল দিচ্ছেন। সে জানায়, আপনি কষ্ট করছেন কেন, আমাকে দিন, আমিই জল দিয়ে দিচ্ছি। সেই সময় আচমকা ছুরি বের করে বৃদ্ধার গলায় ধরে সে। তিনি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলে সুকুমার ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করে। কৃষ্ণাদেবী রক্তাক্ত হয়ে পড়লে তাঁর হাত ও গলা থেকে সোনার গয়না খুলে নেয় সে। এরপর ঘরের ভিতরে ঢুকে আরও কিছু গয়না নিয়ে চম্পট দেয় সুকুমার। পরিচারিকা বেলার দিকে কাজ করতে এসে দেখেন, সামনের গেট খোলা। ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বৃদ্ধা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের ফোন করেন এবং প্রতিবেশীদের খবর দেন। স্থানীয় লোকজন এসে নেতাজিনগর থানাকে বিষয়টি জানান। পুলিশ এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। দুই মেয়ের অভিযোগ, মায়ের গলা ও হাতে থাকা সোনার গয়না ছাড়াও ঘরে থাকা অন্যান্য গয়নাও চুরি করে পালিয়েছে আততায়ী। পুলিশ খুনের চেষ্টা ও লুটের ধারায় কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানে অভিযুক্তের ছবি ধরা পড়ে। সেটি স্থানীয় দোকানিদের দেখালে তাঁরা জানান, ওই যুবকের নাম সুকুমার বৈদ্য। তার বাড়ি চারণে। ১৩ মার্চের পর থেকে সে আর এখানে ফল বিক্রি করতে আসছে না। তদন্তকারী টিম চারণে গিয়ে জানতে পারে, অভিযুক্ত বকখালিতে এক পরিচিতের বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে। তার মোবাইল বন্ধ। এরপর পুলিশ বকখালি গেলেও সেখানে তার হদিশ পায়নি। জানা যায়, সে গা-ঢাকা দিয়েছে নামখানায়। সেখানে হানা দিয়েও লাভ হয়নি। এরমধ্যেই খবর আসে, সুকুমার বারুইপুরে একটি ভাড়াবাড়িতে রয়েছে। সেখানে গিয়ে সুকুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত জানিয়েছে, তার টাকার দরকার ছিল। ফল বিক্রি করে সেভাবে রোজগার হচ্ছিল না। বৃদ্ধার বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে সে জেনেছিল, তাঁর প্রচুর সোনার গয়না রয়েছে। সেগুলি লুটের পরিকল্পনা ছিল। বৃদ্ধা চিৎকার করায় তাঁকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেছে সে।