


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে নয়ানজুলির উপর বেআইনি নির্মাণ শুরু করেছিল দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা রুখে দাঁড়ানোয় সেই কাজ আটকে যায়। তার জেরে বাসিন্দাদের একাংশকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে জগৎবল্লভপুরের পাতিহাল পূর্বপাড়ায়। তদন্ত শুরু করেছে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিস।
পাতিহাল পূর্বপাড়ায় থাকা একটি নয়ানজুলি দীর্ঘদিন ধরেই দখলের চেষ্টা করছিল স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী। সোমবার নয়ানজুলির পাশে নির্মাণসামগ্রী এনে জড়ো করে তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বলা হয়, সেখানে দোকান-ঘর তৈরি করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর ধরে ওই নয়ানজুলিটি জগৎবল্লভপুরের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকে প্রতিবছর ম্যারাথন দৌড় হয়। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মনসাপুজো ও রামপুজো হয়ে আসছে। অংশ নেন আশপাশের প্রায় দশটি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা। তাই সেই জায়গায় কোনওভাবেই বেআইনি নির্মাণ হতে দেওয়া যাবে না বলে রুখে দাঁড়ান স্থানীয়রা। সোমবারই পুলিস এসে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার ফের একদল দুষ্কৃতী এসে সেখানে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দিয়ে যায়। সেখানে তৃণমূলের কার্যালয় তৈরি হবে বলে রীতিমতো শাসানিও দেওয়া হয়। এরপরেই স্থানীয়রা একত্র হয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেখানে কয়েকজন বাসিন্দাকে দুষ্কৃতীরা মারধর করে বলে অভিযোগ। পুলিস ঘটনাস্থলে আসতেই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘দল কোনও ধরনের বেআইনি কাজ সমর্থন করে না। নয়ানজুলির উপর অবৈধ নির্মাণ চলবে না। ঘটনার সঙ্গে দলের কেউ জড়িত রয়েছে কি না সেটা দেখছি। তবে তৃণমূলের পতাকা ব্যবহার করে যে বা যারা এই কাজ করেছে, পুলিস তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুক।’ পুলিস জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের খোঁজ চলছে।