নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে হিন্দু ভোটও হাতছাড়া হওয়ার ভয় পাচ্ছে বিজেপি? মঙ্গলবার রাতে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভেকুটিয়া পঞ্চায়েতের কাণ্ডপসরা গ্রামে বিজেপির বাইক বাহিনী হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় তাণ্ডব চালায়। দোকানঘর, বসতবাড়ি ভাঙচুর চালিয়েছে। টোটো, সাইকেল ভাঙচুর করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। এমনকী সোনার গয়নাও লুট করেছে বলে অভিযোগ। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পরিবর্তে আধা সেনা বেদম লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। তাতে ১৮ বছরের বয়সী এবারের প্রথম ভোটার শুভজিৎ মুখোপাধ্যায় জখম হয়েছে। বুধবার ঘটনাস্থলে যান নন্দীগ্রাম বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। তিনি অবিলম্বে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মঙ্গলবার রাত তখন সাড়ে ১০টা। কাণ্ডপসরা গ্রামে শঙ্কর দাসের চপের দোকানের সামনে বসেছিলেন কালীসুন্দর বারিক, মনোরঞ্জন পাত্র ও শঙ্কর তুঙ্গ। সেই সময় বিজেপির ২৫-৩০টি বাইক বাহিনী লাঠিসোটা ও উইকেট নিয়ে সেখানে চড়াও হয়। শঙ্করের চপের দোকান পুরোটাই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কালীসুন্দরের ডান হাতে উইকেট দিয়ে সজোরে ঘা মারতেই চিৎকার করতে করে তিনি দৌড়ে পালান। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গ্রামের ঢালাই রাস্তার ধারে প্রতিমা হাজরার বাড়ির টালির চালা ভেঙে দেয়। পবিত্র করের সমর্থনে প্রতিমাদেবীর বাড়িতে দেওয়াল লিখন রয়েছে। এরপর দুষ্কৃতীরা ওই গ্রামের নারায়ণ মালাকারের বাড়িতে চড়াও হয়। নারায়ণবাবু সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। পেশায় টোটো চালক। তাঁর টোটো ভাঙচুর করে লাগোয়া পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া, নারায়ণবাবুর দুটো সাইকেল পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর নারায়ণবাবুর স্ত্রী সীমাদেবীকে বেদম মারধর করে বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। সোনার গয়না লুট করে নেয় বলে অভিযোগ।
বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালানোর পর এলাকায় তৃণমূলের ফ্লেক্স, জয় বাংলা পতাকা ছিঁড়ে দেয়। বুধবার দুপুরে ওই গ্রামে যেতেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন গ্রামবাসীরা। নারায়ণবাবুর দাদা মদন মালাকার, প্রতিবেশী শুভদীপ মাইতি বলেন, ‘স্থানীয় বিজেপি নেতা মধুসূদন সাউ ও বুদ্ধদেব সাউয়ের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। আমরা তৃণমূল কংগ্রেস করি বলেই এই হামলা। রাতে আধা সেনা এসে বেদম লাঠিপেটা করে। তাতে মামার বাড়িতে আসা শুভদীপ মুখোপাধ্যায় নামে ১৮ বছরের এক কিশোর আহত হয়েছে।’
মঙ্গলবার হামলার মুখে পড়া কালীসুন্দর বারিক বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনের মতো শঙ্কর দাসের দোকানের সামনে বসেছিলাম। সেই সময় ২৫-৩০টি বাইক আসে। আচমকা হেড লাইটের রং বদল করে হলুদ করা হয়। তারপর গাড়ি থেকে নেমে উইকেট, লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মার। আমার ডান হাতে সজোরে উইকেটের ঘা মেরেছে। হাত ফুলে গিয়েছে। এখানে ঢালাই রাস্তার দু’ধারে ৫১ ও ৫২ নম্বর বুথ। হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকায় বিজেপির পায়ের তলায় মাটি সরে যাওয়ায় এই হামলা।’
পবিত্র কর বলেন, ‘বিজেপির লোকজন নন্দীগ্রামে হেরে যাওয়ার আতঙ্কে পাগল হয়ে গিয়েছে। কমিশনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের লোকজনকে গ্রেপ্তার করাচ্ছে। সেইসঙ্গে রাতের অন্ধকারে হামলা চালাচ্ছে। আমরা পুলিশকে বলেছি, ২৪ঘণ্টার মধ্যে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, ‘কাণ্ডপসরার ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর রেষারেষিতে ওই ঘটনা বলে আমরা জেনেছি।’