Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

আত্মহত্যা নাকি খুন?

আত্মহত্যা নাকি খুন?
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল। মুজফ্ফরপুরে ইউরোপিয়ান ক্লাবের প্রবেশদ্বারে ঘোড়ার গাড়িতে বোমা ছোঁড়েন দুই বাঙালি তরুণ—ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী। লক্ষ্য অত্যাচারী কিংসফোর্ডকে নিকেশ করা। এর পরে পালানোর জন্য দু’টি আলাদা রাস্তা ধরেছিলেন দুই যুবক। পরের দিন ওয়াইনি স্টেশনে ধরা পড়ে যান ক্ষুদিরাম। ২ মে প্রফুল্ল চাকীকে ধরে ফেলে পুলিস। তারপর কী হয়েছিল? এত বছর পরেও কাটেনি ধোঁয়াশা।
Advertisement
পুলিস ঘিরে ফেলায় কোণঠাসা হয়ে নিজের আত্মহত্যা করেছিলেন প্রফুল্ল চাকী। তিনি দু’বার গুলি ছোঁড়েন। একটি গুলি তাঁর বুকে লেগেছিল। অন্যটি এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় তাঁর মাথার খুলি। এটাই প্রচলিত তথ্য।  পরে আলিপুর আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এমনই জানিয়েছিলেন পুলিস অফিসার নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়—যিনি ধরিয়ে দিয়েছিলেন প্রফুল্লকে। কিন্তু আলিপুরের সংগ্রহশালায় রক্ষিত তাঁর মৃতদেহের দু’টি ছবি দেখে এই তত্ত্বে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। গুলি ভরা পিস্তল থাকতে প্রফুল্ল চাকী আত্মহননের পথ বেছে নেবেন কেন? তিনি তো দুর্বল হৃদয়ের ছিলেন না। একইসঙ্গে ক্ষতস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বাঁ-হাতি ছাড়া আর কারও পক্ষে এমন স্থানে গুলি করে আত্মহত্যা করা সম্ভব নয়। অথচ প্রফুল্ল চাকী ছিলেন ডান-হাতি। তাহলে গুলি চালাল কে? এছাড়া ছবিতে দেখতে পাওয়ার তাঁর ঠোঁটের গভীর ক্ষত নিয়েও আঙুল তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে করা হচ্ছে, প্রফুল্লকে বাগে পেয়ে পুলিসকর্মীরা তাঁকে নির্মম অত্যাচার করে গুলি করে খুন করে। এর পরে শনাক্তকরণের জন্য তাঁর মাথা কেটে স্পিরিটে চুবিয়ে পাঠানো হয় কলকাতার গোয়েন্দা দপ্তরে।
সম্পর্কিত সংবাদ