ইংল্যান্ডের লবণের ব্যবসায় গড়া প্রতিপত্তি, আন্দুলের  কুণ্ডুচৌধুরীদের বাড়িতে হর’র পাশে পূজিতা হন গৌরী
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: এক সময় ইংল্যান্ডের চেশায়ার থেকে জাহাজে করে লবণ আসত বাংলায়। সেই লবণ ছোটো ছোটো নৌকোয় চাপিয়ে সরস্বতী নদী ধরে পৌঁছে যেত পোস্তার বাজারে। আহিরিটোলা থেকে কালনা— ছড়িয়ে পড়েছিল সেই ব্যবসার জাল। লবণের কারবার থেকেই আর্থিক প্রতিপত্তি, তার হাত ধরেই জমিদারির প্রতিষ্ঠা। সময় বদলেছে, হারিয়ে গিয়েছে ব্যবসার সেই জৌলুস। কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে আন্দুলের মহিয়ারিতে কুণ্ডুচৌধুরীদের জমিদার বাড়ি। সেই বাড়ির ঠাকুরদালানে পুরানো রীতি মেনে হরের পাশে গৌরী রূপে পূজিতা হন দেবী দুর্গা।

Advertisement

আন্দুল-আলমপুর রাজ্য সড়ক থেকে সামান্য দূরেই এই বাড়ি। এক সময় যেখানে পুজোর দিনগুলিতে মানুষের ভিড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ত গোটা মহিয়াড়িতে, সেখানে এখন অনেকটাই নিস্তব্ধতা। ঠাকুরদালানের চারপাশে পায়রার ডানা ঝাপটানোর শব্দ। বাড়ির ইট, নাটমন্দির আর পুরানো স্থাপত্যে আজও ধরে রাখা হয়েছে বংশের ঐতিহ্য। সেখানেই চলছে পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বংশের পূর্বপুরুষ রামকান্ত কুণ্ডুচৌধুরীর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা। প্রায় দু’শো বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে সেই পরম্পরা। তবে এ বাড়ির পুজোর রীতি কিছুটা আলাদা। প্রথমে হয় বাসন্তীপুজো। পরে আশ্বিনে হয় হর-গৌরীর আরাধনা। বৈষ্ণব মতে পুজোয় দেবীকে ফল ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়। রয়েছে আখ বলি এবং ধুনো পোড়ানোর রীতি। অষ্টমী ও নবমীতে হয় পুঁথিপুজো। পূর্বপুরুষদের লবণের ব্যবসার স্মৃতি ধরে রাখতে নবমীতে ঠাকুরদালানে প্রতীকী নৌকো রেখে হয় ‘বোট পুজো’। পুরানো ব্যবসার ইতিহাস যেন এভাবেই মিশে রয়েছে দেবীর আরাধনায়।
বাড়ির সপ্তম প্রজন্মের সদস্য ৭৬ বছরের অমিতাভ কুণ্ডুচৌধুরীর স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল সেই অতীত। তাঁর কথায়, এই বাড়ির রাস উৎসব এক সময় দূর-দূরান্তে পরিচিত ছিল। পুজো ঘিরে উৎসবে মেতে উঠত গোটা মহিয়াড়ি। এখন আর সেই আয়োজন নেই। রীতি মেনে বছরে দু’টি পুজোই হয়। তবে এখন জমিদারি নেই। পুজোর খরচ জোগাড় করাও কঠিন। পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে গড়া সেবায়েত কমিটি এবং স্থানীয় বাজার ও পোস্ট অফিস থেকে ট্রাস্টের সামান্য আয়েই চলে পুজো। বাড়িতে মাঝেমধ্যে সিনেমা ও সিরিয়ালের শুটিংয়ের প্রস্তাব এলেও তাতে রাজি নন অমিতাভবাবু। তাঁর আশঙ্কা, বাড়ি ভাড়া দিয়ে আয় বাড়াতে গেলে হারিয়ে যাবে বংশের গৌরব। তাই আর্থিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ঐতিহ্য আঁকড়েই বেঁচে রয়েছে মহিয়াড়ির কুণ্ডুচৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো।