Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলেই প্রধান শিক্ষককে মারধর সহশিক্ষকের! চণ্ডীপুরে ধুন্ধুমার

চণ্ডীপুরের স্কুলে সহশিক্ষক নির্মল দোলই প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে। বিস্তারিত জানুন।

স্কুলেই প্রধান শিক্ষককে মারধর সহশিক্ষকের! চণ্ডীপুরে ধুন্ধুমার
  • ১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১৮ বছরের কর্মজীবনের বেনিফিট না পেয়ে স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা চালালেন সহশিক্ষক। শনিবার সকালে চণ্ডীপুর ব্লকের চাকনান পল্লিশ্রী শিক্ষা নিকেতন হাইস্কুলে এই ঘটনায় ধুন্ধুমার বাধে।  এলাকার লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ হামলার শিকার হওয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক নীলকমল দাসকে এড়াশাল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পাশাপাশি অভিযুক্ত সহশিক্ষক নির্মল দোলইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। দ্বিতীয় ক্লাসের পরই এদিন স্কুলে ক্লাস সাসপেন্ড করা হয়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রধান শিক্ষক থানায় যান। সেখানে তিনি স্কুলের সহশিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন।

Advertisement

এদিন দুপুরে অভিযুক্ত সহ শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবি ও নিগৃহীত প্রধান শিক্ষকের পাশে দাঁড়াতে চণ্ডীপুর থানায় যান অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রের্স সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি, জেলা সম্পাদক মৃন্ময় মাজি, মহকুমা সম্পাদক নির্মলেন্দু ঘড়া সহ আরও অনেকে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ওসি-র কাছে ডেপুটেশন দেন ওই শিক্ষকরা। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জেলা স্কুল পরিদর্শকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে প্রধান শিক্ষকদের ওই সংগঠন। 
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক নির্মল দোলইয়ের বাড়ি চণ্ডীপুর ব্লকের চিন্তামণিপুর গ্রামে। তিনি তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁরা বাবা হরিপদ দোলই চণ্ডীপুর ব্লকের বৃন্দাবনপুর-১গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান। ওই শিক্ষক স্কুলে প্রায়ই প্রধান শিক্ষক সহ অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে দুব্যর্বহার করতেন বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে দেরিতে স্কুলে আসার অভিযোগ ছিল। 
অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করতে স্কুলে চার বার ম্যানেজিং কমিটির বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু, তাতে কোনো লাভ হয়নি। এই অবস্থায় ওই শিক্ষকের ১৮ বছরের বর্ধিত বেতনের অংশ আটকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিচালন কমিটি। শনিবার অভিযুক্ত শিক্ষক দেরিতে স্কুলে আসেন। তারপর অফিস ঘরে নিজের জায়গায় বসে পড়েন। সেখানে তিন-চারটি চেয়ার থাকায় অভিভাবকরা এলে দাঁড়ানোর জায়গা পান না। প্রধান শিক্ষক ওই চেয়ারগুলি সরানোর কথা বলতেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন অভিযুক্ত। এরপরই প্রধান শিক্ষককে বেদম মারধর করে। অভিযুক্ত ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষক নির্মল দোলইয়ের হাত থেকে প্রধান শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা করেন অন্য শিক্ষকরা। পরিস্থিতি বিচার করে অন্য শিক্ষকরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ স্কুলে পৌঁছে নির্মল দোলইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি হামলার শিকার প্রধান শিক্ষককে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক বলেন, ওই শিক্ষক প্রচণ্ড বেপরোয়া। চার বার ম্যানেজিং কমিটির মিটিং করে সতর্ক করার পরও সংশোধন হননি। ওঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ