Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২৯’এ ফের বিধানসভা ভোট! প্রস্তুত হতে নির্দেশ অগ্নিমিত্রার

ডিলিমিটেশন বিল পাশ হলেই ২০২৯ সালে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন’! দিল্লির দরবারে কেন্দ্রের এই ‘এজেন্ডা’ই চর্চার শিরোনামে।

২৯’এ ফের বিধানসভা ভোট! প্রস্তুত হতে নির্দেশ অগ্নিমিত্রার
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ডিলিমিটেশন বিল পাশ হলেই ২০২৯ সালে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন’! দিল্লির দরবারে কেন্দ্রের এই ‘এজেন্ডা’ই চর্চার শিরোনামে। আর তাতেই ঘি ঢেলেছেন স্বয়ং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সম্প্রতি তিনি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ভারতী ভবনে কর্মী সম্মেলনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের ভোটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন কার্যকর হয়ে গেলে ২০২৯ সালেই হয়তো আমাদের ফের বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে হবে। এছাড়া পুরভোটও সামনে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পের কথা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে। মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় পড়েছে। 

Advertisement

পুরমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘আগে আমরা বিরোধী ছিলাম। শৌচালয় নেই, রাস্তা নেই, জল নেই বলে সরব হয়েছি। এখন আমরা ক্ষমতায়। আমরা চাইলেই কাজ করতে পারি। তারপরও কেন আমার কাছে সেই তথ্য দিচ্ছেন না?’ এই কথা বলেই তিনি ফের মনে করিয়ে দেন, ফের নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। হয়তো শিগগিরই। ওই দিনের কর্মী বৈঠকে এক নম্বর মণ্ডল কমিটির কর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন। হাজির ছিলেন বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়, মণ্ডল সভাপতি সোমনাথ মণ্ডল প্রমুখ। 
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ অবশ্য বিজেপি পুরনো এজেন্ডা। তা সফল করার জন্য বিরোধী দল ভাঙাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। উদ্দেশ্য, ডিলিমিটেশন সহ কিছু বিল লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করা। যদিও ‘এক দেশ এক ভোটে’র বার্তা নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্যের ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য বাপ্পা চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপির মুখপাত্ররাই যা বলার বলবেন।’ মণ্ডল সভাপতি সোমনাথ মণ্ডল বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের মধ্যেই ব্যাপক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। সেই সব বিষয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি যেতে বলেছেন।’ 
অগ্নিমিত্রা পাল শুধুমাত্র রাজ্যের পুরমন্ত্রী নন, তিনি রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতিও। এছাড়া বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি, রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। তিনি বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অত্যন্ত সুনজরে রয়েছেন। তাই তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের কর্মীদের দেওয়া এই বার্তা যথেষ্ট তৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। অনেকে বলছেন, শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য এই ধরনের মন্তব্য পুরমন্ত্রী করবেন না। দিল্লি থেকে তেমন কোনো বার্তা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এসেছে বলেই তিনি কর্মীদের এখন থেকে ভোটের জন্য তৈরি হতে বলছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ