নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আশ্বিনের বৃষ্টি। সঙ্গে ঝড় ও বজ্রপাতের পূর্বাভাসও রয়েছে। বুধবার আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাস ঘোষণা করেছে সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। ইতিমধ্যে শিলিগুড়িতে বৃষ্টিও নেমেছে। এনিয়েই দুশ্চিন্তায় পুজো উদ্যোক্তারা। বিভিন্ন এলাকায় পুজো প্রস্তুতির গতি স্লথ হয়েছে। এদিকে, সিকিমে ধস অব্যাহত। এদিন দুপুর পর্যন্ত শিলিগুড়ির সঙ্গে সংযোগকারী সংশ্লিষ্ট রাজ্যের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’টি অংশ বন্ধ ছিল। দুপুরের পর সেগুলি খুললেও ধসের জেরে বন্ধ হয়ে যায় উত্তর সিকিমের লাচেন রোড।
সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপের জেরে আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গজুড়ে বৃষ্টির দাপট বাড়তে চলেছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমবে।
এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় বৃষ্টি হয়। হালকা ঠান্ডার আমেজ তৈরি হয়েছে। এমন আবহাওয়ার জেরে পুজো প্রস্তুতির গতিতে কিছু ছন্দপতন হয়েছে। শহরের দেশবন্ধুপাড়ার সুব্রত সঙ্ঘের কর্মকর্তা ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির জেরে মণ্ডপসজ্জার কাজ বাইরে করার বন্ধ রাখা হয়েছে। মৃৎশিল্পী দোলন পাল বলেন, দু’দিন ধরে স্টুডিওর বাইরে প্রতিমা রাখছিলাম। এখন আশ্বিন মাসের বৃষ্টি। তাই পলিথিন দিয়ে প্রতিমা ঢেকে রাখতে হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক রঞ্জন রায় বলেন, নিম্নচাপের জেরে আশ্বিন মাসে বৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে পুজোর প্রস্তুতির গতি কিছুটা মার খাবে। আর সবজি চাষে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে, ধসের জেরে সিকিমে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল ও বরদাং এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন দুপুর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকা দু’টি বন্ধ ছিল। দুপুরের পর এলাকাগুলি দিয়ে যান চলাচল শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট জাতীয় সড়ক বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এদিন বিকেলে উত্তর সিকিমে চুংথাং-লাচেনের মধ্যে সংযোগকারী লাচেন সড়ক ধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সিআইআইয়ের পর্যটন সেলের পক্ষে সম্রাট সান্যাল বলেন, লাচেন রোড থেকে সিকিম সরকার ধস হটানোর কাজ করছে। তবে, পর্যটকরা সুরক্ষিত রয়েছেন। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। • দাদাভাই স্পোর্টিংয়ের মণ্ডপের কাজ চলছে। - নিজস্ব চিত্র।